দেশের মধ্যেই অজ্ঞাত স্থানে আছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল!

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৪, ০৯:১৯ পিএম

গণঅভ্যূত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবার একদিন পর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলি করা নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে জানাচ্ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক সদস্য। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করা নিয়ে কথা বলছিলেন এই পুলিশ সদস্য।
 
ইকবাল নামের সেই পুলিশ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও দেখিয়ে বলছিলেন,  গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা,আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়। 

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বিকারভাবে মনোযোগ দিয়ে ভিডিওটি দেখেন। গুলি ও নিহতের দৃশ্য দেখে তার চেহারায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকা আসাদুজ্জামান খান কামাল গত দশটি বছর যে কোন বিষয় কিংবা ঘটনা নিয়ে ঠিক এমনভাবেই নির্বাকার ছিলেন। তাকে চ্যালেঞ্জ করা বা প্রশ্ন করার মতো সাহস কারো ছিলো না। প্রবল প্রতাপে স্বরাষ্ট্রের মতো সংবেদনশীল মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করলেও, তার আমলেই খুন-গুম থেকে শুরু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘণের অভিযোগে নষ্ট হয়েছে দেশের ভাবমূর্তি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরু হবার পর থেকেই আন্দোলনকারীদের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখিয়ে আসছিলেন এই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এক পর্যায়ে কঠোর হাতে আন্দোলন দমনের হুশিয়ারীও দিয়েছিলেন আসাদুজ্জামান খান। ছাত্রলীগের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হবার কারণে ‘কমপ্লিট সাটডাউন’ থেকে পরিণত হয় শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে।

ছাত্র-জনতার দাবির মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগের পর থেকেই গা ঢাকা দেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে আন্দোলনকারীদের প্রতি নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় আসাদুজ্জামনের বিরুদ্ধে এরিমধ্যে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে হন্য হয়ে খুঁজতে শুরু করে জনতা। গত ১৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর গেন্ডারিয়তে এক বাড়িতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিতি ‘সন্দেহে’ বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয়রা।

আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে শুধু হত্যা মামলাই নয়, ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুদক। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বস্তায় করে ঘুষ নিতেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর,পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ দিতেন বস্তা ভর্তি টাকা ঘুষ নিয়ে। শুধু তার বিরুদ্ধেই নয়, এমন অভিযোগ উঠেছে তার পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধেও। এমন গুরুতর অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

এর আগে, গেলো ১৩ আগস্ট সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের জন্য আসাদুজ্জামান খান ৩০ বিঘা জমি কিনেছেন। ঢাকায় রয়েছে একাধিক বাড়ি-গাড়ি। বেশিরভাগ সম্পদ তিনি তার ছেলে সাফি মুদ্দাসির খানের নামে করেছেন। দুই কোটি দামের একটি গাড়ি রাস্তাও ফেলে দেন তিনি।  

কিন্তু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় আছেন, সে সম্পর্কে এখনো কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মন্ত্রী-এমপি শুরু করে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, তাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। আবার অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে কেউ কেউ সেনা হেফাজতেও রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে আসাদুজ্জামান খান আছেন কিনা, সেটিও জানা যায়নি।

উত্তেজিত জনতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খোঁজে তার ধানমন্ডির বাসভবন ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে দেশেই আছেন। শেষ মুহূর্তে শত চেষ্টা করেও দেশ ছাড়তে পারেননি। শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর জানতে পেরে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান তিনি। তবে, তিনি ঠিক কোথায় আছেন জানা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। একদা প্রবল প্রতাপশালী ব্যক্তিটি এখন পলাতক আসামি।

এআর
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার বিদ্যমান সেনা আইনেই পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সীমান্তের সর্বত্র সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...
জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য এলাকা নির্ধারিত থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্য এলাকা নির্ধারিত নেই।
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করেন তাহলে তারা সেভাবে ব্যবস্থা নিবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান ও কাতার। 
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনটিটি)- এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয়...
রোববার নিউ জার্সির রাতে লাল জার্সিতে দ্বিতীয় নক্ষত্র খোদাই করে বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস লিখেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ঠিক কী ঘটেছিল...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর