অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটা যেভাবে চলছে তাতে তো কোনো সমস্যা নেই। এক হাজার টাকা বাতিলের বিষয়ে আমার দিক থেকে কোনো কথা নেই।
মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকলসের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা।
এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, ১ হাজার টাকা মূল্যমানের নোট বাতিলের যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা গুজব।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মূল অথোরিটি বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা যদি এমন কথা জানিয়ে থাকে, তাহলে তো এটা নিয়ে আর কোনো সমস্যা নেই। এটা যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে।
সর্বশেষ জুলাইয়ে চীনের সঙ্গে যে চুক্তিগুলো হয়েছে সেগুলো কি বহাল থাকবে নাকি এগুলো রিভিউ হবে– এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা যে ঋণ নিয়েছি, তার সুদের হার কমানোর দাবি তুলে ধরেছি। সেইসঙ্গে ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি।
তিনি বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের কাজ চালিয়ে যাও। প্রকল্পের কাজের জন্য নতুন সরকার তাদের সমর্থন দেবে। আগে অনেক প্রকল্পে অপচয় হয়েছে, তা যেন না হয়; সে বিষয়েও বলা হয়েছে। আর আগে অযাচিতভাবে অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আমরা এমন কোনও প্রকল্প আর নেবো না।
তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে, এমন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ঋণের বোঝা বাড়ে; যা সাধারণ মানুষের ওপরই গিয়ে বর্তায়।
তিনি বলেন, চীন ও কানাডা আর্থিকসহ সবরকমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আরও বেশি কিছু করা যায় কিনা তা বলেছি, তারা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঋণের বোঝা দুঃখজনক ব্যাপার। চ্যালেঞ্জ আছে, তা নিয়ে কাজ করা হবে। আগের সরকারের নেয়া ঋণের বোঝা বড় চাপ। এটা দুঃখজনক। কি করা যায় ভাবা হচ্ছে, কাজ করা হচ্ছে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, চীনের কাছে বাংলাদেশের ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ আছে এখন। আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি আছে। বড় লোনের বোঝা নিয়েই শুরু করেছি। এটা চ্যালেঞ্জ আছে কিন্তু তা মোকাবিলা করবো।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে কাজ করতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: রাষ্ট্রদূত