নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আগুনে পোড়া গাজী টায়ারের বিধ্বস্ত ছয় তলা ভবনটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এখনও কাজ করে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে আট সদস্যের তদন্ত কমিটিসহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞরা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) মেশিনের মাধ্যমে ভবনের অবকাঠামোসহ প্রতিটি তলার ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তারা। তবে কোন তলাতেই জীবিত বা মৃত কোন মানুষের অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি।
এছাড়া ভবনটির ৪,৫ ও ৬ তলা ভেঙে তৃতীয় তলায় পড়ে স্তুপ হয়ে গেছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ভবনটিতে উদ্ধার কাজ না করার নির্দেশনা দেয় বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব আহসান। পরে বুয়েট ও তদন্ত কমিটির নির্দেশে বেলা সোয়া ১১ টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ভবনটির বেজমেন্টে তল্লাশি চালায়। তবে সেখান থেকে কোন মরদেহ বা দেহবাশেষ পাওয়া যায়নি বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কোথাও আগুনের ধোঁয়া দেখলেই পানি দিয়ে নেভানো কাজ করছে। তবে আপাতত উদ্ধার কার্যক্রম তদন্ত কমিটির পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ আছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে, তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান মাহমুদ জানান, আগামী সাত দিন পর তদন্ত কমিটি একটি প্রতিবেদন দেবে। ভবনটি পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধার করা করা সম্ভব না। এ ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া ১৩৫ জনের একটি নিখোঁজের তালিকা করা হয়েছে। সেটা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেয়া হবে। তারা সেগুলোর যাচাই করবেন।
গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজী টায়ারস কারখানায় কয়েকশ’ লোক ঢুকে লুটপাট শুরু করে। খুলে নিয়ে যাওয়া হয় ভারী মেশিনও। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ভবনটির নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
মুহূর্তে আগুন পুরো ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ডেমরা, আদমজী ইপিজেড, আড়াইহাজার, নরসিংদী, কাঞ্চন, হাজীগঞ্জ, ঢাকার সিদ্দিকবাজার ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় ২১ ঘণ্টার চেষ্টার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।
এদিকে ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ১২৯ জন নিখোঁজের একটি তালিকা করেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অপেক্ষায় শত শত পরিবার। বলা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ লুটপাটের পর কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া পৌনে দুইশ’ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
কারখানাটির মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী৷ গত রোববার ভোরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি।
গ্রেপ্তারের খবর তার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে টায়ার প্রস্তুতকারী কারখানাটির অদূরে একটি মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয়। এ ঘোষণার পর কয়েকশ’ মানুষ জড়ো হন কারখানাটির সামনে, শুরু হয় লুটপাট।
গাজী টায়ারস: ধসে পড়েছে দেয়াল, নিখোঁজদের অপেক্ষায় স্বজনরা
গাজী টায়ারস ভবনে মেলেনি জীবিত বা মৃত মানুষের অস্তিত্ব