কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার বিচার দাবিতে রোববার দুপুর থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত একটানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন টলিউডের শিল্পীসহ জনতা। এতে যোগ দেন ওই চিকিৎসকের পরিবারও।
রোববার দুপুরে কলকাতার টলিউডের কলাকুশলীরা কলেজ স্কয়ার থেকে মিছিল করে ধর্মতলায় আসেন। পরে সেখানেই রাতভর চলে প্রতিবাদ। তাদের এই কর্মসূচি রাত গড়িয়ে চলে ভোর চারটা পর্যন্ত।
এদিন দুপুর তিনটার দিকে কলেজ স্কয়ার থেকে শুরু হওয়া মিছিল শেষ হয় ধর্মতলায় এসে ৷ মিছিলে জনতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, সোহিনী সরকার, দেবলীনা দত্ত, বিদীপ্তা চক্রবর্তীদের মতো শিল্পীরা। সবার দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ।
ধর্মতলায় মিছিলটি শেষ হওয়ার পর ধর্না মঞ্চে বসে পড়েন প্রতিবাদকারীরা। এসময় স্বস্তিকা বলেন, আমাদের রাজ্য তথা দেশে ভয়ের ব্যবসাটাই এখন সব থেকে বড় ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৯ আগস্টের নৃশংসতার প্রতিবাদে তিনি বলেন, কেউ এখানে নিজের কথা বলছে না ৷ সবাই অন্যের জন্য বলছে। দেশে ধর্ষণ হোক, খুন বা র্যাগিং-ভয়ের ব্যবসাটাই বড় ব্যবসা।
ঘরে বসে প্রতিবাদ করা যায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি এর আগে আসতে পারছিলাম না বলে অপরাধী মনে হচ্ছিলো। দেশে ফেরার পর আজই যোগ দিলাম ৷
আরজি কর ঘটনার তদন্ত প্রথমে লালবাজারের হাতে থাকলেও, এখন রয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে ৷
স্বস্তিকা বলেন, আমাদের বলা হচ্ছে, এতো প্রতিবাদের কী আছে! দোষীকে তো আমরা ধরেই ফেলেছি । কিন্তু আমরা তো বিশ্বাস করবো না। দোষী তো এখানে একজন নয়।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, এ হত্যায় জড়িতদের বাঁচানোর জন্যই এতো কাণ্ড হচ্ছে। এতো মানুষের দেশে যদি রাতারাতি নোটবন্দি করে ফেলা যায়, তাহলে ২৩ দিন কেটে যাওয়ার পরও কেন অপরাধীদের ধরা গেলো না ৷
ধর্মতলার সামনে ধর্না মঞ্চে থেকে সকালে বাড়ি যাওয়ার আগে স্বস্তিকা ফেসবুকে লেখেন, ‘বাড়ি ফিরছি। আপনারা যারা আজ ঘুমোলেন, কাল জাগবেন। লড়াই চালিয়ে যেতেই হবে। বিচার না আসা পর্যন্ত।’
মমতার বাড়িসহ একদিনে তিন স্থাপনা ঘেরাও, ঘোষণা শুভেন্দুর