বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্কের স্বার্থেই সীমান্ত হত্যা থেকে ভারতের বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, সীমান্ত হত্যা দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত হত্যা ভারতের উপকার করছে- এরকমটি কাউকে বলতে শুনিনি।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। ‘সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদে কী কোনো কাজ হয়নি’- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় সীমান্তে নিহত হন ১৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি কিশোরী স্বর্ণা দাস।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে ওই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর চারদিনের মাথায় সোমবার ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সীমান্তে গুলিতে ১৫ বছর বয়সী কিশোর জয়ন্ত সিংহের মৃত্যুর খবর দেয় পুলিশ।
জয়ন্তর মরদেহ বিএসএফ নিয়ে গেছে এবং ওই কিশোরের বাবাসহ দুজন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
জয়ন্ত হত্যার ঘটনাতেও কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠানো হবে জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, আমরা প্রতিবাদের ভাষা অনেক শক্ত করেছি। আমাদের এটুকুই এই মুহূর্তে করার আছে আসলে। আমরাতো তাদের সাথে যুদ্ধ বাঁধাবো না। এটা যেহেতু অত্যন্ত সেনসিটিভ একটি ইস্যু, সেটা কিন্তু আমরা প্রতি মুহূর্তে বলছি। আমরা আশা করছি, এটা তারা বিবেচনায় নেবে।
সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছি এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছি।
প্রতিবাদ জানানোর পর ভারতের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না- জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এখনো কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।
এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা দাবি করেছি, যারা এটা করেছে, তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। এটা আমরা কিন্তু উল্লেখ করেছি আমাদের নোটে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি যে, আমরা এটার নিন্দা জানাই এই কাজটার। এটা আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছি।
তিনি বলেন, গতকাল যেটা (জয়ন্ত হত্যা) হলো, সেটা নিয়েও আমরা ঠিক অনুরূপ প্রতিবাদ করবো। এবং যেখানে আমাদের সুযোগ হয় সেখানে বলবো। এটা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। দুদেশের স্বার্থে উচিত, এটা থেকে বেরিয়ে আসা।
মানবাধিকার সংস্থা আইন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৩ জন।
বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ২০২৩ সালে ২৮ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন, ২০২১ সালে ১৭ জন, ২০২০ সালে ৪৮ জন এবং ২০১৯ সালে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার নতুন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। সাক্ষাতের পর সীমান্তে প্রাণহানি নিয়ে প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আছি: প্রণয়