ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ভিসা বন্ধ করছে ভারত। পর্যটন শূন্য কলকাতা। আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় গত দেড় মাস ধরে চলছে আন্দোলনের ধর্ণা ও মিছিল।
এই পরিস্থিতি শেষ হতে না হতেই, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে শুরু হয়েছে ‘ম্যান মেড’ বন্যা। ডুবেছে তিন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। দুই বাংলার প্রভাব পড়েছে কলকাতাসহ আশপাশের জেলার বাজার অর্থনীতি। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি। বন্যা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গলা চড়িয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার নায্য বিচারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে মুখ থুবড়ে পড়েছে কলকাতাসহ আশপাশের জেলাগুলোর অর্থনীতি। করোনার মত মহামারী ছাড়া হেরিটেজ তকমা পাওয়া পুজো মৌসুমের ব্যবসা ইতিহাসে এমন ঘটনা অতীতে ঘটেনি।
নিম্নচাপ ও বেশি বৃষ্টিপাতের আগাম আভাস পেয়ে সময়ের অনেক আগেই কুমোরটুলির শিল্পীরা দূর্গা প্রতিমা তৈরি শুরু করেছিলেন। অর্থনীতির চাকার গতি বাড়াতে ক্লাবগুলোকে পুজোর অনুদান বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮৫ হাজার টাকা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ।
নানা থিমের মন্ডপ তৈরির বাঁশ বাধার কাজও শুরু করেছিলেন পুজো কমিটিগুলো। কিন্ত সব ওলোট পালোট করে দিয়েছে গত ৯ আগষ্টের রাত। আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন হন তরুনী চিকিৎসক ‘তিলোত্তমা’ । এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা রাজ্য।

সব দোষীদের গ্রেফতার না করায় তদন্তের গাফিলতির সাথে প্রকাশ্যে আসে রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামো পদ্ধতির দূর্নীতি। শহর থেকে গ্রাম সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে দাবি করে ‘উয়ি ওয়ান্ট জাস্টিস’। গেলো একমাস ধরে চলছে বিচার চাওয়া আন্দোলন । পাঁচ দাবি মেনেও স্বস্তিতে নেই রাজ্য সরকার।
বিগত বছরগুলোতে এই সময় ক্রেতাদের ভিড় ও কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকত কলকাতার নিউমার্কেট, গড়িয়াহাট, শিয়ালদা,বড়বাজারের দোকান মলে । চলতি মরসুমে পুজোর কেনাকাটা বাদ দিয়ে গত এক মাস ধরে দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমেছে প্রতিবাদী মানুষ।
ফলে পশ্চিমবঙ্গের শতাধিক বাজার ইতিমধ্যে কয়েকশ’ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। কেনাকাটা করতে না আসায় মাছি তাড়াচ্ছেন হোটেল রেস্তোরাঁর ব্যবসায়ীরাও।

বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ভিসা জটিলতায় পশ্চিমবঙ্গে কমেছে পর্যটকের সংখ্যাও। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও কলকাতার বস্ত্র বাজারগুলো বাংলাদেশি ক্রেতাদের না পেয়ে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা এখন আন্দোলনের কোপে পড়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রাজ্যের বাজার অর্থনীতির চাকা সচল করতে উৎসবে ফেরার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টলিউডের শিল্পী থেকে মফস্বলের প্রতিবাদীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উল্টে বিচার চেয়ে উৎসব পালনের ডাক দিয়ে পথে নেমেছেন তারা ।
অবৈধ বাংলাদেশিদের ঝুলিয়ে রাখার হুমকি অমিত শাহর