আবারও সিনেমা হলে ফিরে এসেছে আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আজব কারখানা’। জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে পরে শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা আন্দোলনকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন হল থেকে কিছু দিনের জন্য তুলে নেয়া হয়। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এখন আবার হল মালিকরা আগ্রহী হচ্ছেন চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনে।
এর আগে, গত ১২ জুলাই বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছিলো শবনম ফেরদৌসীর রচনা ও পরিচালনা এবং সামিয়া জামানের প্রযোজনায় সিনেমা ‘আজব কারখানা’। এরপরই রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে হল থেকে সিনেমাটি উঠিয়ে নেয়া হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও হলে ফিরে ‘আজব কারখানা’।
সিনেমাটির নির্মাতা শবনম ফেরদৌসী বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ‘আজব কারখানা’ সিনেমাটি চলছে যমুনা ব্লকবাস্টারে। সামনের সপ্তাহ থেকে ছবিটা চলবে নারায়ণগঞ্জ সিনেমাস্কোপে। ছবিটি দেখার ও অন্যকে দেখতে উৎসাহিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হবার পর দেশের পর্দায় মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই দর্শকের সাধুবাদ কুড়িয়েছিল ‘আজব কারখানা’। কিন্তু দেশে তখন চলছিল জুলাই গণভ্যুত্থানের শুরুর দিকের আন্দোলন পর্ব। কিছুদিনের মধ্যেই সংঘাত-সহিংসতায় অস্থির হয়ে ওঠে দেশের পরিস্থিতি।
এতে করে ক্ষতির মুখে পড়ে ‘আজব কারখানা’। তবে সিনেমা নয়, তখন সার্বিকভাবে দেশের কথা ভেবে এবং আহত ও নিহতদের প্রতি সহমর্মী হয়ে হল থেকে ‘আজব কারখানা’ তুলে নেন নির্মাতা ও প্রযোজক।
প্রথম দফায় হলে মুক্তির পর এক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা নিয়ে শবনম ফেরদৌসী বললেন, বেশ ভালো চলছিল। ১৭ জুলাই অবধি আমরা হলে গিয়েছি। অনেক দর্শক ছিলো। এরপর আসলে দেশের পরিস্থিতি অনেক খারাপ হতে শুরু করে, মানুষ হত্যা-খুন হতে শুরু করে। সে অবস্থায় আমরা ছবির সব প্রচার বন্ধ করে দেই।
তিনি আরও বলেন, তারপর কিছুদিন হল কর্তৃপক্ষ ছবিটা চালায়, কিন্তু আমরা এক পর্যায়ে ছবিটা হল থেকে তুলে নেই। সে সময়টাতে যা চলছিল তার সহমর্মিতার জায়গা থেকে। অবশেষে আবারও হলে ফিরেছে ‘আজব কারখানা’। এখন মোটামুটি সব ঠিকঠাক, প্রায় দু’মাস তো হলোই।
শবনম ফেরদৌসী জানান, কিছু কিছু হল পুনরায় আগ্রহী হচ্ছে এই সিনেমা প্রদর্শনের জন্য। স্টার সিনেপ্লেক্স ছবিটি চালিয়েছে। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চলতি ঘটনায়। আশা করছি তারাও ছবিটি চালাবে। তাহলে দু’পক্ষই লাভবান হবে। দর্শকদেরও আহ্বান জানাবো, তারা যেন পুনরায় হলমুখী হন।
এতদিন ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেছেন শবনম ফেরদৌসী। সেই হিসেবে ‘আজব কারখানা’ তার প্রথম চলচ্চিত্র, বললেন তিনি। এই সিনেমার জন্য ২০১৬-১৭ সালে সরকারের অনুদান পেয়েছিলেন। পরিচালনার পাশাপাশি ছবির সংলাপও লিখেছেন তিনি।
এই সিনেমার কাহিনি গড়ে উঠেছে একজন রকস্টারের জীবন ঘিরে। শহুরে জীবনে অভ্যস্ত এই শিল্পী গ্রাম-বাংলার বাউল শিল্পীদের সংস্পর্শে এসে নিজের জীবনের নতুন অর্থ খুঁজতে শুরু করেন।

মূল ভূমিকায় অভিনয় করা পরমব্রত বলেন, তিনি নিজেও একটি ব্যান্ড দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলার লোকসংগীত নিয়েও তার আগ্রহ রয়েছে। তাই এই সিনেমায় কাজ করা তার জন্য সহজ হয়েছে। ২০১৯-২০২০ সাল মিলিয়ে কাজটি করেছিলাম। করতে গিয়ে দেখেছি, বাংলাদেশের লোকায়ত গান-বাজনার সম্ভার। তার সঙ্গে সম্যক পরিচয় আমার হয়েছে। সহশিল্পীদের বেশিরভাগই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত নয়, তারা সঙ্গীত শিল্পী।
‘আজব কারখানা’ সিনেমায় প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন বাংলাদেশি মডেল শাবনাজ সাদিয়া ইমি। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন দিলরুবা দোয়েল, খালিদ হাসান, সেলিম বয়াতি, দিলু বয়াতি, কিতাব আলী, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, মুনতাকা অর্পণ, মাইমুনা মমো ও মাহরিন মান্য।
২০২২ সালে ২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয় ‘আজব কারখানা’। উৎসবের ‘এশিয়ান সিলেক্ট: নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড’ বিভাগে প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয় চলচ্চিত্রটি। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাংলাদেশ প্যানোরমা বিভাগে দেখানো হয় ‘আজব কারখানা’।

এছাড়াও ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের প্যারিসে ‘গঙ্গা থেকে সিন’ চলচ্চিত্র উৎসবেও গেছে এই সিনেমা।
সিনেমায় মৌলিক গান রয়েছে পাঁচটি। কবি হেলাল হাফিজের চারটি কবিতা এই সিনেমার গান হয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি গানের সংগীতায়োজন করেছে ভাইকিংস, আরেকটি লাবিক কামাল গৌরব। অন্য গানটি করেছে ব্যান্ড সেভেন মিনিটস। ছবির আবহ সংগীতও পরিচালনা করেছেন লাবিক কামাল গৌরব।
এবার অস্কারে যাচ্ছে ‘লাপাতা লেডিস’