টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, পূর্বধলা ও সদরের কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১৫টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক। পানির তোড়ে ভেসে গেছে অনেক বসতভিটার মাটি ও আসবাব। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দি হাজারো মানুষ।
এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি দুর্গাপুর ও জারিয়া পয়েন্টে কমেছে। তবে উব্দাখালি নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। ধীরে ধীরে কমছে পানি বৃদ্ধির প্রকোপ।
সরেজমিন, অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি, খারনৈ, নাজিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের ওপর দিয়ে পানি উঠেছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাও বাজার থেকে মহেশখোলা সড়কে তিন কিলোমিটার সড়ক পানিতে ডুবে আছে। পানি তোড়ে পাঁচগাও সড়কের বাবুখলা এলাকায় সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানিতে অনেকের বসতভিটার মাটি ও আসবাব ভেসে গেছে। তারা আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে।
এছাড়া হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেকে। উঠতি আমন ফসল ও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও মাছের খামারিরা।
কলমাকান্দা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতে ভারী বৃষ্টি কারণে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। দুর্গতদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার জন্য উপজেলায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে।
নওগাঁয় সড়ক ঝরলো দুই কলেজছাত্রের প্রাণ