তিনদিনের চেষ্টাতেও, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডির বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি কিউবা। ফলে, দুইদিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি। শুক্রবার থেকে লাখ লাখ মানুষ অন্ধকারে ডুবে আছে। খাদ্য, ওষুধ এবং জ্বালানির গুরুতর সংকটের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে দেশটির মানুষ।
দ্বীপের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হবার পর কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড শুক্রবার মধ্যরাতে প্রথমবার ভেঙে পড়ে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার সকালে গ্রিড আবারও বন্ধ হয়ে যায়। রোববার সন্ধ্যায় জানানো হয়, বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু কিছু পরে গ্রিড তৃতীয়বার ভেঙে পড়ে।

কিউবায় এমন প্রবল বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই আছড়ে পড়েছে হারিকেন অস্কার। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ঝড়ের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণপূর্ব বাহামার গ্রেট ইনাগু দ্বীপে হারিকেনটি আছড়ে পড়ে। কিউবার গুয়ান্তানামোতে হারিকেনের মধ্যভাগ পৌঁছায় স্থানীয় সময় ছয়টা ১০ মিনিটের দিকে।
সে সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। শক্তিশালী এই হারিকেনের ফলে প্রচুর বাড়ি ভেঙে গছে। অনেক বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। হারিকেন আছড়ে পড়ার পর চারিদিকে ধসের ছবি দেখা গেছে। একের পর এক বাড়ি ধ্বংস করে চলে গেছে এই শক্তিশালী ঝড়।

কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের বিদ্যুৎ-সংকট সোমবার বা মঙ্গলবার সকালে কাটতে পারে। তখন বিদ্যুতের গ্রিড আবার আগের মতো কাজ শুরু করতে পারে। তবে, হারিকেনের তাণ্ডবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। যে সব জায়গায় প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, সেখানেই অস্কার তাণ্ডব চালিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে কিউবায় ব্ল্যাক আউট চলছে। সরকার জরুরি নয় সেই সব জায়গায় বিদ্যুৎ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শুক্রবার পুরো গ্রিড ব্যবস্থা বসে যায়। ফলে এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। শনিবার সকালে আবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়। পরের দিন তৃতীয়বারের মতো বসে যায় জাতীয় গ্রিড।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ৬০ বছরের পুরোনো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি জোগাড় করতে গিয়ে তারা অসুবিধায় পড়েছেন। হাভানার কিছু এলাকায় রোববার বিদ্যুৎ এসেছে। কিন্তু রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকা অন্ধকার ছিলো।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরে সাবধান করে দিয়ে বলছেন, কিউবার পাওয়ার গ্রিড ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে। কারণ, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অনেক পুরোনো। আর সরকারও জ্বালানি কেনার অবস্থায় নেই। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এক্ষেত্রে কিউবার অবস্থা খারাপ হয়েছে।
লেবাননের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসরাইলের হামলা
ইরানে হামলার গোপন নথি ফাঁসে বিপাকে আমেরিকা