ইরানের সাম্প্রতিক মিসাইল হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে আছে- ইসরাইল। ওই সময়েই দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলো, যথাসময় যথাযথ জবাব দেয়া হবে। এরপর থেকেই ইরানে হামলা করার নানা ফন্দি ফিকির করছে। সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দোসর আমেরিকার সঙ্গে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য শুরু হয় যোগাযোগ। এরিমধ্যে, ইরানে ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলা পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অতিগোপন কিছু গোয়েন্দা নথি ফাঁস হয়েছে। আর এতেই মাথা নষ্ট আমেরিকা ও ইসরাইলের।
এতো গোপনীয় এই পরিকল্পনার নথি কিভাবে ফাঁস হলো, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসন রোববার সিএনএন-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, এই ফাঁস হওয়া তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে কিছু গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং তিনি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই নিয়ে একটি ব্রিফিং পেতে যাচ্ছেন বলেও অনুষ্ঠানের উপস্থাপককে জানান।
আর মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নথি ফাঁসের ঘটনা তদন্তাধীন। কারণ নথিগুলো সত্য বলে মনে হচ্ছে। এই নথিগুলো মার্কিন জিওস্পেশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির। এতে দেখা গেছে, ইসরাইল এখনও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যা ১ অক্টোবর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে করা হচ্ছে।

নথিগুলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিনিময়ের জন্য তৈরি হয়েছিল। ঘটনাটি সম্পর্কে জানাশোনা আছে, এমন তিনটি সূত্র বলেছে, নথিগুলো সঠিক। নথিগুলোতে ১৫ ও ১৬ অক্টোবরের তারিখ দেয়া। তবে অনলাইনে এসব ছড়িয়ে পড়তে থাকে গত শুক্রবার। এর আগে ‘মিডল ইস্ট স্পেকটেটর’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে নথিগুলো টেলিগ্রামে প্রকাশিত হয়।
নথিগুলোর একটিতে বলা হয়, এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি’র সংগ্রহ করা। এ নথিতে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইলের মহড়া চালানোর কথা বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ মহড়া ইরানে দেশটির হামলা চালানোর প্রস্তুতিরই অংশ। তবে সিএনএন এসব নথি থেকে সরাসরি তথ্য উদ্ধৃত করেনি বা সেগুলো দেখেনি।
নথিগুলো প্রথমে শুক্রবার টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে পোস্ট করা হয় এবং এরপর সিএনএন ও অ্যাক্সিওস এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কর্মকর্তারা তাদের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এ নিয়ে কথা বলেছেন। কারণ তারা জনসমক্ষে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তাদের কোন অনুমতি নেই। এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ওই নথিগুলো সঠিক। তদন্তে এই নথিগুলো কীভাবে ফাঁস হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নথিগুলো কোনও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যের ইচ্ছাকৃত ফাঁস, নাসাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও কোনও গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে। এক কর্মকর্তা জানান, পোস্টের আগে নথিগুলোতে কারা প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে নথি ফাঁসের ঘটনা ক্ষুব্ধ করেছে ইসরাইলকে।
নথি ফাঁসের এ ঘটনা এমন একসময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সম্পর্ক এক স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে এটি ইসরাইলিদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করবে। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন, তেহরানে হামলায় হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহত হওয়াসহ আরও কিছু ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইরান ১ অক্টোবর ইসরাইলে প্রায় দুইশ’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইল দেশটিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলকে হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের হত্যার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে, উত্তরে লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। যাতে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি এড়ানো যায়। তবে ইসরাইলি নেতৃত্ব বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের মিসাইল হামলার প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে তারা বসে থাকবে না।
লেবাননের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসরাইলের হামলা