২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এই যুদ্ধের ফলে ইউক্রেনের হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। যুদ্ধের এক হাজারতম দিন পার হলেও জানা নেই কবে শেষ হবে এই সংঘাত। যুদ্ধ শুরুর পর দু’দেশের মধ্যে তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনা হলেও, সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। এই পর্যায়ে এসে উল্টো সাফল্য অর্জন করছে রুশ সামরিক বাহিনী।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের জনসংখ্যা এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে, ৬০ লাখ মানুষ শরণার্থী হিসেবে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষেই লাখ লাখ মানুষ হতাহত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তবে এই যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা এখনও অনিশ্চিত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আগামী বছর কূটনৈতিক পন্থায় যুদ্ধ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে গত জুনেই প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়ে দিয়েছিলেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার উচ্চাশা বন্ধ করতে হবে। আর চারটি এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইউক্রেন সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে উল্টো সাফল্য অর্জন করছে রুশ সামরিক বাহিনী।
ইন্সটিটিউট ফর দি স্টাডি অফ ওয়ার বা আইএসডব্লিউ- এর তথ্য উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের যে পরিমাণ ভূমি রাশিয়া দখল করেছিল তার চেয়ে অন্তত ছয় গুণ বেশি ভূমি চলতি বছরে তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
তারা এখন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস এলাকায় দেশটির রসদ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেন যে বিস্ময়কর অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল সেটি এখন নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা কিয়েভের ওই আক্রমণকে কৌশলগত বিপর্যয় উল্লেখ করে বলেছেন, এর ফলে ইউক্রেন এখন লোকবল সংকটের মুখে পড়েছে।

নতুন তথ্য উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে ২০২৪ সালে রাশিয়ার পক্ষেই গেছে পরিস্থিতি। তাদের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর রাশিয়া ইউক্রেনের ২৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছে। অথচ গত বছর তারা মাত্র ৪৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে পেরেছিলো।
বিবিসি রাশিয়ান নিশ্চিত করেছে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার কমপক্ষে ৭৮ হাজার ৩২৯ সৈন্য মারা গেছে। ওদিকে রাশিয়ার অগ্রগতি সত্ত্বেও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন অভিযানের গতি খুবই ধীর। এসবের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অনুমোদনের পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার ‘এটিএসিএমএস’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসার পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তিনি এবার এই যুদ্ধ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন? প্রশ্ন উঠেছে, ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য দেওয়ার নীতির, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী হবে?
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন পুতিন
এই প্রথম মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালালো ইউক্রেন