বিদ্রোহী যোদ্ধাদের ঝটিকা অভিযানের মুখে পালিয়ে গেছেন সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ। তার পতনের পর সিরিয়াতে রাজনৈতিক অস্থিরতা। নতুন করে আবারও উঁকি দিচ্ছে গৃহযুদ্ধ। এতদিন যে রাশিয়া ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো দামেস্কের পাশে, তারাই এখন পাততাড়ি গোটাচ্ছে দেশ থেকে। বসে বসে পরিস্থিতি নজরে রাখছে আমেরিকা ও তুরস্ক। অন্যদিকে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।
আসাদহীন সিরিয়ায় মঞ্চস্থ হচ্ছে মহানাটক। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটির ভবিষ্যৎই এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ইসলামি স্টেট আবারও মাথাচাড়া দেয়ার সম্ভাবনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে গোপনে দেশ ছেড়ে বাশার আল-আসাদ রাশিয়াতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে সিরিয়ার ভূরাজনৈতিক চিত্র। এবার সিরিয়া থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া।
সিরিয়া থেকে যুদ্ধবিমান ও রণতরি আগেই সরিয়ে নিয়ে গেছে রাশিয়া। এখন বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোতায়েন করা অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০সহ অন্যান্য সমরাস্ত্র সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া। শুক্রবার দুটি ভারী রুশ সামরিক পরিবহন বিমান সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে লাতাকিয়াতে অবস্থিত খেমিমিম বিমান ঘাঁটিতে দেখা গেছে। যা ধরা পড়েছে কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্রে। দৃশ্যমান হয়েছে সামরিক নড়াচড়া।

এরই ধারায় সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় এক শহর থেকে রুশ বাহিনীর একটি বহরকে উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ার তারতুস সামরিক ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার সিনসার এলাকার দামেস্ক-হোমস হাইওয়েতে বেশ কিছু রুশ মিলিটারি কনভয় দেখা গেছে। রুশ বাহিনীর বহরটি উত্তরের দিকে যাচ্ছে। ওই কনভয়ে ট্যাংক, সাঁজোয়াযান ও অন্যান্য বাহন ছিল। এর আগে ওসব সমরাস্ত্র সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ঘাঁটিতে ছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, এসব এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন সিরিয়ার নতুন সরকারের সাথে রাশিয়া কোনো চুক্তিতে যেতে পারবে কিনা এবং নতুন চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ায় রুশ সামরিক ঘাঁটি থাকছে কিনা, এসব বিষয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রাশিয়ার সকল নৌ-জাহাজ তারতুস বন্দর ত্যাগ করেছে।
ম্যাক্সার স্যাটেলাইট জানাচ্ছে, তারতুসে অবস্থিত রাশিয়ার নৌঘাঁটি এখনো বহাল তবিয়তে আছে। সেখানে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ম্যাক্সার বলেছে, গত ১০ ডিসেম্বরের আমাদের তোলা ছবিতে যে অবস্থান ছিল শুক্রবার তোলা ছবি অনুসারেই তারতুস ঘাঁটির অবস্থান অপরিবর্তিত আছে। তারতুসের উপকূলে দুটি (রুশ) ফ্রিগেট এখনো দেখা যাচ্ছে। রুশ নৌবহরের কোনো জাহাজ এখনও বন্দর ছেড়ে যায়নি।

ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল-৪ নিউজ জানিয়েছে, তারা ১৫০টিরও বেশি রুশ সামরিক যানবাহনের একটি বহরকে সিরিয়ার সড়কপথে চলতে দেখেছে। রুশ সামরিক বাহিনী শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে অগ্রসর হচ্ছিল এবং মনে হচ্ছিল রাশিয়াকে সিরিয়া থেকে শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রস্থানের জন্য একটি চুক্তি হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
অবশেষে অভিশংসিত হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট
রুশ গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কায় মলদোভায় জরুরি অবস্থা জারি