এখনও থামেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। গেলো বছর বাহিনীগুলোর হাতে মারা যায় ২১ জন। যেখানে ১২ জনের মৃত্যু ৫ আগস্টের পর।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গেলো সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। আর সর্বোচ্চ দশটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বৈরাচার মুক্ত দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িতদের বিচারের মধ্যদিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করাই জরুরি।
গেলো বছরের ১০ সেপ্টেম্বর। গাইবান্ধার সাঘাটায় পাঁচজন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। পরে এদের দুজনকে মৃত অবস্থায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ নির্যাতনের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

গেলো ১৭ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে যুবদল নেতা সাইদুল ইসলামকে আটক করে যৌথবাহিনী। আটকাবস্থায় মারা যান সাইদুল। এই ঘটনাতেও নির্যাতনের অভিযোগ করেন স্বজনরা।
বিএনপির সাইদুল বা সাঘাটার দুই আওয়ামী লীগ নেতার মতো ২০২৪ সালে মোট ২১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন। এদের ১২ মারা যান ৫ আগস্টের পর। আর ৯ জনের মৃত্যু আওয়ামী লীগ শাসনামলে।
এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে পুলিশ হেফাজতে দশজন, যৌথবাহিনী সাতজন। র্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে একজন করে মোট চার জন মারা যায়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির সদস্য নূর খান লিটন বলেন, বিচারবহির্ভূত নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ড। এসব একেবারে বন্ধ হয়েছে তেমন লক্ষণ আমরা দেখছি না।
যে বাহিনীর সদস্যই হোক না কেন, বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, সংখ্যার হিসেবে আসলে অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। যেহেতু তাদেরকেও একটা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে জুলাইয়ের পর থেকে। আওয়ামী লীগ সরকার হত্যাকাণ্ড চালিয়ে গেছে ওয়ার অন টেররের নামে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হবে কিনা সেটা নির্ভর করছে আমাদের পরবর্তী সরকার কীভাবে আসছে তার ওপর নির্ভর করে।
স্বৈরাচার আমলের মতো বাহিনীগুলো যাতে আবারও নিপীড়কের ভূমিকায় নামতে না পারে সেটি নিশ্চিত করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
অনির্দিষ্টকালের জন্য রেস্তোরাঁ বন্ধের হুমকি ব্যবসায়ীদের