রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বন্ধে সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। এই বৈঠকে খনিজ সম্পদের চুক্তি ও রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা চলছে। বৈঠকটি হোয়াইট হাউসের বিতর্কিত বৈঠকের পর ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।
সৌদি আরবের জেদ্দায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যোগ দেননি। তবে বৈঠক শুরুর আগে আমেরিকার সঙ্গে খনিজ সম্পদের চুক্তি সইয়ে সায় দেন তিন। আর বৈঠক শুরু হবার পর ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে।
জেদ্দার এই বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওলাল্টজের সঙ্গে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা এবং প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রে ইয়েরমাক অংশ নিচ্ছেন। তবে বৈঠকে রাশিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছেন না।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বন্ধের আলোচনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলমান বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আংশিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা তোলা হতে পারে। এ প্রস্তাবে আকাশ ও নৌপথে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি থাকছে বলে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বৈঠকের আগে সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৌদি আরব সফর করেন এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। মঙ্গলবার তাঁর দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছেন কিয়েভের কর্তা।
জেলেনস্কি বলেন, সৌদির যুবরাজ প্রকৃতপক্ষে শান্তি আনার চেষ্টা করছেন। সৌদি যুবরাজের সাথে, আমরা যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করেছি । বিশেষভাবে বন্দীদের মুক্তি এবং আমাদের সন্তানদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টির উপর জোর দিয়েছি । ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, যুবরাজ সালমানের সঙ্গে তার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, ইউক্রেনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি। এর বাইরে, প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করেছেন দুই দেশের নেতা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পর ইউক্রেনে-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে সৌদি আরব । এরই ধারাবিহকতায় সৌদি আরবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসেছেন। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের রিয়াদে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক করেছিল। ওই বৈঠক সফল বলে দুই পক্ষই দাবি করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিচ্ছেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বাগবিতণ্ডার পর কিয়েভকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছেন। ওই বৈঠকের পর প্রথমবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসছেন।
মঙ্গলবারের বৈঠকের পর ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা আবার চালুর আশা করছে। জেদ্দা আলোচনা শুরুর আগে ইয়েরমাক সাংবাদিকদের বলেন, শান্তি অর্জনের জন্য আমরা সব কিছু করতে প্রস্তুত।
হোয়াইট হাউসের বৈঠকের পর ট্রাম্পের চাপে খনিজ চুক্তিতে সই না করেই হোয়াইট হাউস ছেড়ে চলে যান জেলেনস্কি। তবে তিনি এখন বলছেন, ওই চুক্তিতে তিনি সই করতে চান। তবে মার্কিন পররাষ্টমন্ত্রী রুবিও বলেন, জেদ্দার আলোচনায় খনিজ চুক্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজে বের করতেই এ আলোচনা।
এদিকে, এ বৈঠকের আগে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির কর্মকর্তা বলছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে চাপ দিতেই এ হামলা।
