এবারের রোজার ঈদে সরকারি ছুটি থাকবে ৯ দিন। ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গত রাত থেকে বাড়ি পথ ধরেছের উত্তরের মানুষ। গত রাতে চিত্রটা একটু ভিন্ন হলেও সাতসকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ মহসড়কের চিত্র খানিকটা ভিন্ন। ২২ জেলার মানুষের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজটের দেখা মেলেনি। তবে বেলা বাড়লে কী ঘটবে তা এখনই বলা না গেলেও হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দাবি, এবারের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তির। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু, এই সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পথ যদি ভোগান্তি মুক্ত হয়, তবে ঈদযাত্রা স্বস্তির হতে পারে।

টাঙ্গাইল
সকাল থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটের দেখা মেলেনি। ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন উত্তরের ও দক্ষিণের যাত্রীরা। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও স্বাভাবিক গতিতেই চলছে যানবাহন।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভোর থেকে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তবুও চিরচেনা যানজটের এই মহাসড়কে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে যার যার কাঙ্খিত গন্তব্যে যাচ্ছেন।
সকালে সরেজমিনে, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে দ্বিগুণ হয়েছে যানবাহনের সংখ্যা। যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন সড়কের লোকাল বাস, লেগুনায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রী বহন করছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ নিরলস কাজ করছে। এছাড়াও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর টহলও দেখা গেছে।
মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা থাকলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের দুই লেনের কাজ চলমান রয়েছে। যার ফলে চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে আসতে পারলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় অনেকটাই ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েই গেছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক। যানজট যাতে না হয় সেজন্য পুলিশ ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশে গাড়ির চাপ থাকলেও সকাল পর্যন্ত কোনো যানজটের দেখা মেলেনি। ফলে স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফিরছে উত্তরের মানুষ। হাইওয়ে পুলিশ ও সওজের দাবি, বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে উত্তরের ঈদযাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক হবে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে নির্বিঘ্নে মানুষ ঈদযাত্রা করতে দেখা গেছে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২টি জেলার মানুষের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতু। এই মহাসড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন ১৮-২২ হাজার পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। যা ঈদের সময় সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রার চিত্র পুরো ব্যতিক্রম। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পুরো চার লেন চালু হওয়ায় সুফল পাচ্ছে ঘরমুখো মানুষ। সড়কে নেই চিরচেনা যানজট, নেই পরিবহন সঙ্কটও।
মহাসড়কে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো প্রকার জটলার সম্ভাবনা নেই। যানজট নিরসনে ছয় শতাধিক জেলা পুলিশ, ১০০ হাইওয়ে ও অর্ধশত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজীপুরে গাড়ির ধীর গতি, চন্দ্রা মোড়ে অস্বস্তি, বেশি ভাড়ার অভিযোগ