ভোগান্তি ছাড়াই এবার সড়ক-নৌ-রেলপথে ঈদযাত্রা করছেন ঘরমুখো মানুষ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দাবি, সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণেই এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হয়েছে। তবে কিছু অভিযোগ থাকলেও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট ঘরমুখো মানুষ।
শনিবার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শন করে তিনি একথা বলেন।
এসময় ঈদকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরণের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে উপদেষ্টা জানান, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এবার ঈদে সবাই ছুটি ভোগ করছে। কিন্তু পুলিশ-বিজিবি-আনসার ছুটি কাটাচ্ছে না। তারা নিশ্চিদ্রভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ঢাকায় কাজ করছে। মানুষ যেন ভালোভাবে যেতে পারেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভালো থাকে এজন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি এখানে এসেছিলাম টিকেটের দাম বেশি আদায় করা হচ্ছে কি না বিষয়টি দেখার জন্য। প্রত্যেকটি কাউন্টারে ভাড়ার চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বেশি ভাড়া আদায় করে তবে আপনারা বিআরটিএ ভিজিলেন্স টিমের কাছে অভিযোগ করবেন। এছাড়াও পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, দুই একটা ছোটখাটো অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবাই আপনারা দোয়া করবেন যাত্রীরা যেন ভালোভাবে যেতে পারে। চালকদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বিশ্রাম পায় কি না। কারণ বিশ্রাম না পেলে সড়কে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মালিকদের বলা হয়েছে।
এদিন অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভাড়া ও যাত্রী সেবায় অনিয়মের অভিযোগ একটি কাউন্টার ও একটি বাসকে জরিমানা করা হয়েছে।
সকালে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অন্যদিনের তুলনায় যাত্রীর চাপ থাকলেও বেলা গড়াতেই সেই চাপও কমতে শুরু করে। তবে, কিছু অভিযোগ থাকলেও, ঈদ যাত্রা নিয়ে স্বস্তির কথা জানান তারা। গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরাও জানান সন্তুষ্টি।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ থাকলেও ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে কোনো যানজট নেই। শনিবার সকাল পর্যন্ত ওই দুই মহাসড়কে কোথাও যানজট দেখা যায়নি। তবে দুপুরের পর থেকে গাজীপুরের সব কারখানায় ছুটি হবে। এতে সড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন যানজট নিরসনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশের তথ্য বলছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছে। বাকি কারখানাগুলো শনিবারের মধ্যে ছুটি হয়ে যাবে। ফলে দুপুরের পর ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ বাড়বে।

নৌ ও রেলপথ
সড়কে তো স্বস্তি রয়েছেই, পাশাপাশি নৌ ও রেলপথেও এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
ঈদের সময় ঢাকা থেকে ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হওয়ার সঙ্গে ট্রেনযাত্রীদের কমবেশি পরিচয় থাকলেও এবার ট্রেন বিলম্ব হচ্ছে না। শনিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেনের কমলাপুর স্টেশন ছাড়তে বিলম্ব হয়নি। আবার দিনের বেলায় এই স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদেও উঠতে পারছেন না কেউ। তবে ট্রেনগুলোর প্রতিটি কোচে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে তারা গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।
যাত্রীদের অনেকে মনে করছেন এবারের ঈদ যাত্রা এতটাই নির্বিঘ্ন হচ্ছে, যেটা এর আগে বাংলাদেশে কখনো দেখা যায়নি। এ ছাড়া ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা এর আগের চেয়েও অনেক কম। স্টেশন এলাকাতে ভিড়ের সংখ্যাও কম।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন জানান, রেলওয়ের সব বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ফলে এবারের ঈদযাত্রা সুন্দর হচ্ছে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মোট ৭০টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে জৌলুস ফিরেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের। ভোর থেকেই ছিলো ঘরমুখো মানুষের ভিড়। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর লোভে বেশিরভাগ লঞ্চকেই দেরিতে ঘাট ছাড়তে দেখা গেছে। ঈদ আনন্দ থাকলেও বিলম্বে লঞ্চ ছাড়া নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন যাত্রীরা।
তবে এ ক্ষোভ আনন্দে পরিণত হতে সময় লাগেনি, লঞ্চ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব ক্ষোভ যেন নিমেষেই হাওয়া, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দ সবার চোখেমুখে।
শনিবার ভোর রাত থেকেই যাত্রী খরায় ভোগা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল যেন তার জৌলুস ফিরে পায়, টার্মিনালে বাধা সাড়ি সাড়ি লঞ্চগুলো সব যাত্রীতে টইটম্বুর, পা ফেলার জায়গা নেই টার্মিনালেও।
বেশিরভাগ লঞ্চ বিলম্বে ছাড়ার বিষয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ নিয়ে কোনো সদুত্তর নেই লঞ্চ কর্তৃপক্ষের। টার্মিনাল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও বিলম্বে লঞ্চ ছাড়া নিয়ে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি তাদের।
এবারের ঈদে ৫০টি রুটে মোট ১৭৫ টি লঞ্চ যাত্রীসেবা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ।
