জাতীয় নাগরিক পার্টির পদযাত্রা ঘিরে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের পর প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা এখনো চলছে। বহাল থাকবে রোববার রাত আটটা পর্যন্ত। পরিস্থিতি বুঝে পর্যায়ক্রমে ১৪৪ ধারাও তুলে নেয়া হবে। সেই হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় সেখানে পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। এ পর্যন্ত চারটি মামলায় ৩০৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পাঁচজন নিহতের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
কয়েক দফা কারফিউ শেষে, শনিবার রাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। এতে রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার যে কোনো এলাকায় সভা, মিছিল বা জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কড়া টহল থাকলেও রোববার থেকে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। শহরের কিছু পয়েন্টে পুলিশের টহল দেখা গেছে। তবে সেটি গত কয়েকদিনের মতো কড়াকড়ি নয়। কারফিউ শিথিল করে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও সদরের সড়কে লোক চলাচল কম। বাজারের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে দিনমজুরসহ সাধারণ মানুষরা।
গত বুধবারের ওই ঘটনায় গোপালগঞ্জে চারটি হত্যা মামলাসহ এখন পর্যন্ত আটটি মামলায় ৫ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলা গত কয়েকদিনের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, বুধবারের হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মোট চারটি মামলা করেছে। এসব মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২ হাজার ৬৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, গোপালগঞ্জে কোনো গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না। সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অন্যায় করলে তাকে গ্রেফতার হতে হবে। কোন অবস্থায় দুষ্কৃতকারী যেন ছাড়া না পায়। আর যে অপরাধ করে নাই সে যেন কোন অবস্থায়ই ধরা না পড়ে।
এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এরই জেরে ওইদিন রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রথম দফা কারফিউ জারি করা হয়। এরপর শুক্রবার ও শনিবার আবার কয়েক দফায় কারফিউ বাড়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গোপালগঞ্জে কারফিউ ধীরে ধীরে তুলে নেয়া হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা