ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই: আমরা থামবো না’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত নেতাদের ছবির প্রদর্শনী করে ইসলামী ছাত্রশিবির। এর প্রতিবাদে সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ করেন বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ছবিগুলো সরিয়ে নেয়।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী, বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা টিএসসিতে জড়ো হন এবং ছবি সরিয়ে ফেলার দাবি জানান। পরে শিবিরের সম্মতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম ছবি সম্বলিত ব্যানারটি সরিয়ে নেন বলে জানা গেছে।
‘আমরাই ৩৬ জুলাই: আমরা থামবো না’ শীর্ষক আয়োজনে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী, কামরুজ্জামান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শনী করা হয়। এর প্রতিবাদে সেখানে হাজির হয়ে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থি নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে ছবিগুলো সরিয়ে ফেলে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্র শিবিরকে জানিয়ে এবং তাদের সম্মতিতেই ছবি সরানো হয়েছে বলে জানান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাবি ছাত্র শিবিরের ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
জুলাই গণঅভু্যত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী উমামা ফাতেমা এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই বাংলাদেশের জন্ম, আর ২৪ এর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন। জনগণের সংগ্রামের ধারায় বাংলাদেশের ইতিহাস নির্মিত হয়েছে। এই ছবির প্রতি চূড়ান্ত ঘৃণা জানিয়ে দিলাম। জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূতিকে বিতর্কিত করে ৭১ এর মুখোমুখি দাঁড় করানোর এক ঘৃণ্য প্রচেষ্টা করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির। এই ছবি আমাদের লাখো শহীদের রক্তের প্রতি, আমাদের জুলাই এর অভ্যুত্থানের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান।’
সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে শিবিরের সম্মতিক্রমেই ছবিগুলো সরানো হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আমরা চাই না।

পরে এই ঘটনায় টিএসসি অডিটোরিয়ামে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সভাপতি এসএম ফরহাদ বলেন, শাহবাগের প্রজন্ম কখনও আইনকে তোয়াক্কা করেনি। বিচারকে আইনি চ্যালেঞ্জ করেনি। বাম ছাত্র সংগঠনগুলো এখনও শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের দোসর হিসবে কাজ করছে।
তার ভাষ্য, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড, বিচার নয়। যারা এই হত্যকাণ্ডের বিরুদ্ধে যায় তারা হাসিনা ও আওয়ামী লীগের দোসর।
ফরহাদের দাবি, বাম সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মব তৈরি করেছে। তাই প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করেছে।
ডাকসুকে বাঁধাগ্রস্ত করতেই মব তৈরি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ভবিষ্যতেও যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে অবস্থান একই রাখবে শিবির। কারণ তারা বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার। আজকের পরিস্থিতির বিপরীতে শিবিরের কর্মসূচি থাকবে।
