ফিলিস্তিনের গাজা সিটি দখলের জন্য পরিকল্পিত আক্রমণের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পালাচ্ছে মানুষ। পরিকল্পিত স্থল আক্রমণের অংশ হিসেবে বুধবার তীব্র বোমাবর্ষণ ও আর্টিলারি হামলা শুরু করে ইসরাইলি সেনারা। এরপর শহরের উপকণ্ঠে ঘাঁটি স্থাপন করেছে তারা। এই শহরে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বাস করেন।
এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, প্রায় ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা তলবের অনুমতি দেন। এদিকে গাজা শহর দখলের জন্য আক্রমণ শুরু করার সাথে সাথে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ ছিটমহলে আরও তিনজন ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা গেছেন।
আতঙ্কে দিন পার করছেন গাজা সিটিতে আটকে পরা প্রায় দশ লাখ ফিলিস্তিনি। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ এর মুখপাত্র এফি ডেফরিন বলেছেন, উপত্যাকাটির সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র গাজা শহর দখলের লক্ষ্যে অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু করেছে। ডেফরিন জানান, আমরা গাজা সিটিতে প্রাথমিক অভিযান এবং আক্রমণের প্রথম ধাপ শুরু করেছি। সেনারা এরইমধ্যে জেইতুন ও জাবালিয়া এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
শহরের জেইতুন ও সাবরা পাড়ার শত শত বাসিন্দা শহরের উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ আক্রমণ অবশ্যম্ভাবীভাবে মৃত্যু ও ধ্বংস ডেকে আনবে। ইসরাইল আন্তর্জাতিক সমালোচনা উপেক্ষা করে পুরো গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনায় অটল রয়েছে- এ বার্তাই দিতে চাইছে।
এফি ডেফরিন বলেন, আমরা প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু করেছি, এবং ইতিমধ্যেই, আইডিএফ সৈন্যরা গাজা শহরের উপকণ্ঠ দখল করছে। দুটি ব্রিগেড কাজ করছে। বেসামরিকদের ক্ষতি কমাতে গাজা শহরের বেসামরিক জনগণকে তাদের নিরাপত্তার জন্য সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হবে।
এদিকে হামাস বলেছে, গাজা সিটি দখলের ইসরাইলি অভিযান ফিলিস্তিনির বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ। সংগঠনটির অভিযোগ করেছে, ইসরাইল ফিলিস্তিনি শহরটিকে ধ্বংস এবং এর বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এর মাঝেই গাজায় আটক ইসরাইলি বন্দীদের আত্মীয়স্বজনরা গাজা দখলে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে গাজা সিটি দখলের অভিযানের পাশাপাশি অন্যান্য জায়গায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এসব হামলায় ত্রাণপ্রত্যাশী সহ অনেক ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন।
ইসরাইলের অনেক মিত্র গাজা সিটি দখলের এ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে। বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, এ পরিকল্পনা দুই জাতির জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং গোটা অঞ্চলকে স্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) বলেছে, নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও সহিংসতা বেড়ে গেলে গাজার ২১ লাখ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাবে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানি কমেছে জাপানের
বিদেশি কর্মী নিতে আবারও কলিং ভিসা উন্মুক্ত করলো মালয়েশিয়া