কুমিল্লায় মা-মেয়ের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে জড়িত মূলহোতা কবিরাজ মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকা থেকে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতদের ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপ, ব্যাগ, জামাকাপড় ও ঝাড়ফুঁকের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন, ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য খুব শিগগিরই জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবারক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মোবারক জানান, নিয়মিতভাবে সে ওই বাসায় যেতেন এবং ঝাড়ফুঁকের কাজ করতেন তিনি। ঘটনার দিন দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে মা-মেয়েকে আলাদা কক্ষে অবচেতন করে ফেলেন। এরপর তিনি সুমাইয়ার কক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় সুমাইয়ার চিৎকারে মা তাহমিনা বেগম ছুটে এলে মোবারক মেয়ের দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাহমিনাকে তার কক্ষে নিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনি সুমাইয়ার কক্ষে ঢুকে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
হত্যার পর মোবারক বাসা থেকে নিহতদের মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। সোমবার সন্ধ্যায় ট্রেনে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আরফিন (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগমের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে নগরীর কালিয়াজুরী পিটিআই মাঠসংলগ্ন ‘নেলী কটেজ’ ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমাইয়া কুমিল্লা আদালতের সাবেক হিসাবরক্ষক মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে। মা-মেয়ে নগরীর সুজানগর এলাকায় বসবাস করতেন।
প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকলেও পুলিশের ধারণা ছিলো, তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) কুবি ক্যাম্পাসে মানববন্ধন এবং কুমিল্লা নগরীর পুবালী চত্বরে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে তারা ফের বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সোমবার পুলিশ সুপার তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু সময় পার হলেও তারা কোনো তথ্য পাননি।
তারা বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তার মা যদি নিজ বাসায় নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, শহরবাসী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলছেন, এমন অপরাধ যেন আর কেউ করার সাহস না পায়।
ডাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মৃত্যু
নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জরুরি বার্তা দিলো দূতাবাস