পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই মুহূর্তে শক্তিশালী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়াকে থামানো না গেলে, পুতিন যুদ্ধকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবেন। ইউক্রেন মাত্র শুরু। পুতিনকে থামাতে না পারার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার হাত থেকে অন্যান্য দেশগুলো রক্ষার চেয়ে পুতিনকে থামানো অনেক সহজ।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো সংস্থাটির সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন, যে দেশগুলো যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তারা জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাছ থেকে কেবল বিবৃতিই পাচ্ছে, কোনো কার্যকর সহায়তা নয়।
গাজা, সিরিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, এসব বড় সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যথেষ্ট সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন নয়, বরং অস্ত্রই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। যদি কোনো দেশ শান্তি চায়, তাহলেও তাকে অস্ত্র নিয়ে কাজ করতে হয়। এটা অসুস্থ বাস্তবতা, কিন্তু এটাই সত্য। আন্তর্জাতিক আইন বা সহযোগিতা নয়, অস্ত্রই নির্ধারণ করে কে বাঁচবে।’
জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পেতে ইউক্রেনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার স্থায়ী সদস্যপদ ও ভেটো ক্ষমতা এই কাঠামোকে অকার্যকর করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক আইন তখনই পুরোপুরি কাজ করে, যখন আপনার শক্তিশালী বন্ধু থাকে, যারা সত্যিই সেটিকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।
ইউক্রেনীয় নেতা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ছুরিকাঘাতে নিহত ইউক্রেনীয় নারী ইরিনা জারুৎস্কার জন্যও শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আমরা যখন সংবাদ খুলি, তখন আমরা সহিংস হামলার শিরোনাম দেখতে পাই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সচারচরের অস্ত্র ব্যবহার করি, কিন্তু অস্ত্রগুলো আমাদের আত্মরক্ষার ক্ষমতার চেয়েও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে, জেলেনস্কি সতর্ক করে দেন।
ইউক্রেনের নেতা পরামর্শ দেন, রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে কয়েক হাজার মানুষ এখন ড্রোন ব্যবহার করে হত্যা করতে জানে। ড্রোন আরও ব্যাপকভাবে পাওয়া গেলে আগামিতে কী হবে সেই প্রশ্ন তুলে জেলেনস্কি বলেন, বিশ্ব নিজেকে রক্ষা করার জন্য খুব ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ, আকাশে একটি ড্রোনের সঙ্গে আরেকটি ড্রোনের ঠোকাঠুকি লাগার মতো পরিস্থিতি ও সময় এসে গেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বাস করছে উল্লেখ করে জেলেনস্কি কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যেতে পারে, সে সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী একটি নিয়ম তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সবাইকে ভুগতে হবে।
