বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশ জাপানের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচিকে বেছে নিয়েছে পার্লামেন্টের নিম্ন ও উচ্চকক্ষ। এরপর সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন তাকে। যেটিকে জাপানের রাজনীতিতে মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
জাপানের আয়রন লেডি হিসেবে খ্যাত কে এই সানায়ে তাকাইচি?
জাপানের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান সানায়ে তাকাইচি।

যুক্তরাজ্যের 'আয়রন লেডি' খ্যাত প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার সানায়ে তাকাইচির রাজনৈতিক জীবনের আদর্শ। তিনিও 'আয়রন লেডি' হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। দীর্ঘ লড়াই শেষে এবার তার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।
১৯৬১ সালে নারা প্রিফেকচারে জন্ম নেয়া সানায়ের পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি কোবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ফেলোশিপ করেন।
তার রাজনৈতিক আগ্রহ জন্ম নেয় মার্কিন-জাপান বাণিজ্য সংঘাতের সময়। তখন তিনি মার্কিন কংগ্রেসওম্যান প্যাট্রিসিয়া স্ক্রোডারের অফিসে কাজ করতেন। সে সময় জাপানের প্রতি পশ্চিমাদের ভুল ধারণা এবং দেশটির স্বাধীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে উপলব্ধি করেন তিনি।

১৯৯২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার পার্লামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান সানায়ে। কিন্তু পরের বছর ভোটে জিতে ১৯৯৬ সালে এলডিপিতে যোগ দেন।
২০২১ ও ২০২৪ সালে এলডিপির নেতৃত্ব বাছাইয়ের নির্বাচনে দুইবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেলেও এবার তার তৃতীয় প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। এলডিপির ৭০তম বার্ষিকীতে নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

তাকাইচি একসময় একটি হেভিমেটাল ব্যান্ডের ড্রামার ছিলেন এবং টিভি হোস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে তিনি রক্ষণশীল মতাদর্শের অধিকারী।
সময়টা সত্তরের দশকের শেষ দিকে। তখন হেভি মেটাল সংগীত ও কাওয়াসাকি মোটরসাইকেলের ভক্ত ছিলেন তাকাইচি। পশ্চিম জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ট্রেন ও বাসে ভ্রমণ করতেন। কারণ, বিয়ের আগে মেয়ে বোর্ডিং হাউসে থেকে পড়াশোনা করবে- সেটি পছন্দ ছিল না পরিবারের।

তিনি বিবাহিত নারীদের পূর্বনাম রাখার বিরোধী এবং সমলিঙ্গ বিবাহের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নারীদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিশুসংক্রান্ত খরচে করছাড় এবং কর্মক্ষেত্রে বাচ্চাদের যত্ন সহায়তা প্রদানের জন্য কর সুবিধার মতো প্রস্তাব এনেছেন।
জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি