বিদ্রোহীদের দখলে যাওয়া অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধার করছে মিয়ানমারের জান্তা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪১ এএম

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর অবিরাম বিমান হামলা ও চীনের সমর্থন কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। এর ফলে দেশের সামরিক পরিস্থিতি জান্তার পক্ষে ঝুঁকছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছর কয়েক মাসের কঠিন লড়াইয়ের পর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অবশেষে কিয়াউকমে শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছিলো। এই শহরটি চীন সীমান্ত থেকে মিয়ানমারের বাকি অংশের প্রধান বাণিজ্য পথে অবস্থিত, যা এশিয়ান হাইওয়ে ১৪ (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘বার্মা রোড’ নামে পরিচিত) এর ওপর অবস্থিত।

তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) কর্তৃক এই শহরের দখলকে বিরোধীদের জন্য এক বড় বিজয় হিসেবে দেখা হয়েছিলো। অনেকে মনে করেছিলেন যে, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার মনোবল ভেঙে পড়ছে।

কিন্তু, এই মাসের শুরুর দিকে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সামরিক বাহিনী কিয়াউকমে পুনরায় দখল করে নেয়। এই ছোট পাহাড়ি শহরের ভাগ্যের এই পরিবর্তনই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মিয়ানমারে সামরিক ভারসাম্য জান্তার দিকে কতটা ঝুঁকে গেছে।

বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত কিয়াউকমে

কিয়াউকমেকে এই ওঠানামার জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছে। টিএনএলএ-র নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন সামরিক বাহিনীর প্রতিদিনের বিমান হামলায় শহরের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিমান বাহিনীর জেটগুলো ৫০০ পাউন্ডের বোমা ফেলেছে, পাশাপাশি আর্টিলারি ও ড্রোন দিয়ে শহরের বাইরের বিদ্রোহীদের অবস্থানে আঘাত করা হয়েছে।

ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে শহরের বেশিরভাগ মানুষ পালিয়ে গিয়েছিলো। তবে সামরিক বাহিনী শহরটি পুনরুদ্ধার করায় তারা এখন ফিরতে শুরু করেছে।

টিএনএলএ-এর শেষ শক্ত ঘাঁটি পুনরুদ্ধার

টিএনএলএ-এর মুখপাত্র তাড় পার্ন লা এই মাসের শুরুতে বিবিসিকে বলেছিলেন, কিয়াউকমে এবং হ্সিপাওতে প্রতিদিন তুমুল লড়াই চলছে। এই বছর সামরিক বাহিনীর কাছে আরো সৈন্য, ভারী অস্ত্র এবং বিমান শক্তি রয়েছে। আমরা হ্সিপাও রক্ষা করার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

তবে বিবিসির সঙ্গে কথা বলার পর থেকে জান্তার বাহিনী শেষ পর্যন্ত হ্সিপাও-ও পুনরুদ্ধার করেছে, যা গত বছর টিএনএলএ’র দখল করা শেষ শহর ছিলো। এর ফলে চীন সীমান্তের পথে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

চীনের পূর্ণ সমর্থন এবং নির্বাচন পরিকল্পনা

বিশ্লেষকদের মতে, এই শহরগুলো দ্রুত পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো চীন সামরিক জান্তার পক্ষে তার পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। বেইজিং আগামী ডিসেম্বরে সামরিক জান্তার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে। এই নির্বাচন পরিকল্পনাটি ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছে কারণ এতে অং সান সু চি’র ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা গত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল কিন্তু অভ্যুত্থানে তাদের সরকার উৎখাত হয়েছিলো। তার ওপর মিয়ানমারের বড় অংশ গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে রয়েছে।

সামরিক জান্তা তাই এখন হারানো অঞ্চলগুলো যতটা সম্ভব পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে, যাতে এই এলাকাগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সামরিক বাহিনী অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ও মারাত্মক প্রযুক্তি অর্জন করায় এ বছর তারা এই লড়াইয়ে বেশি সফল হচ্ছে।

একাত্তর/আরএ
চীন সীমান্ত সংলগ্ন তিমুরে এলাকায় পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কমাতে একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল। সম্প্রতি হিমবাহ ধসের...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চার বছরের মধ্যে প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্য সফরে মিশর পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার মিশরের রাজধানী কায়রোতে...
হিমালয় পর্বতমালায় ভয়াবহ হিমবাহ ধসের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চীন-নেপাল সীমান্তজুড়ে স্বজনহারা মানুষের হাহাকার আর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নেপালে এখন পর্যন্ত ১,১১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা...
চীন-নেপাল সীমান্তে গত সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,১৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪,৫০০ জন। বুধবার উভয় দেশের সরকারি সংস্থা থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ...
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি ও জন্মাষ্টমী শুক্রবার। ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন করে মানবজাতির কল্যাণের লক্ষ্যে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই...
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) বাতিল হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর