গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবারো হামাসকে হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নিজেদের বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এরই মধ্যে ইসরাইল সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন ‘যতটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার চেয়েও ভাল যাচ্ছে। এদিকে, গাজায় থাকা আরো দুই জিম্মির মরদেহ ইসরাইলের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে হামাস। বাকি মরদেহগুলো খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে গোষ্ঠিটি।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। ইসরাইলের সংসদ হিসাবে পরিচিত নেসেটে দেয়া এক ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গর্ব করে জানান, রোববার গাজায় ১৫৩ টন বোমা বর্ষন করেছে তার সেনাবাহিনী।
গাজার সরকারি জনসংযোগ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইল ৮০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
এরই মধ্যে, গাজায় সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। সংস্থাটি জানিয়েছে, মাত্র দুটো সীমান্ত দিয়ে ত্রাণ প্রবেশ করতে পারছে।
এতে উপত্যকাটিতে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় দুই হাজার টনের চেয়ে অনেক ত্রাণ পৌছাচ্ছে সেখানে। এছাড়া দুর্ভিক্ষ কবলিত উত্তর গাজায় ত্রাণ পাঠানো যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
একই দিন হামাস জানিয়েছে, গাজায় থাকা জিম্মিদের মরদেহ ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু কিছু মরদেহ মাটির তলদেশে আর কিছু মরদেহ বহুতল ভবনে থাকায় এগুলো উদ্ধারে আধুনিক অস্ত্র দরকার বলে জানিয়েছে হামাস। কিন্তু এসব উদ্ধারযন্ত্র পাওয়ার বিষয়ে কোন পক্ষই কিছু বলছে না।
এদিকে, ইসরাইল সফরে আছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন ‘যতটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার চেয়েও ভাল যাচ্ছে’ এবং এই বিরতি বহাল থাকতে পারে। এ সময় তিনি হামাস সহযোগিতা না করলে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন।
ভ্যান্স বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি মেনে চলার বিষয়ে ইসরাইল খুবই সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তারা গাজা পুনর্গঠন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করছে। এবং এটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যে গাজায় একটি নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা থাকবে না।
একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হামাসকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এসময় হামাস চুক্তি ভঙ্গ করলে তাদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প।
