ইসরাইল ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন ১০ বছর মেয়াদী একটি নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য থাকলেও ইসরাইলি নেতারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তারা ভবিষ্যতে সরাসরি মার্কিন আর্থিক অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে পদত্যাগের আগে গিল পিনকাস ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে এই আলোচনা শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। এই আলোচনায় ইসরাইল নগদ সাহায্যের চেয়ে যৌথ সামরিক ও প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
পিনকাস ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, এই প্রেক্ষাপটে অংশীদারিত্ব শুধু নিছক আর্থিক বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ... এমন অনেক বিষয় আছে যা অর্থের সমান মূল্যবান। এই বিষয়টিকে আরও বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ইসরাইল প্রতি বছর ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি আর্থিক সহায়তা বা ‘ফ্রি মানি’ পায়, যা দিয়ে তারা মার্কিন অস্ত্র ক্রয় করে থাকে। পিনকাসের মতে, এই আর্থিক সহায়তার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি সরকার ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদী একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। এর আওতায় মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়, যার মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ৩৩ বিলিয়ন ডলার অনুদান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি আশা করেন আগামী দশকে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর ইসরাইলের নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ইরানের দোরগোড়ায় মার্কিন ‘আর্মাডা’, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা
মার্কিন আর্মাডার জবাবে চরম হুঁশিয়ারি দিলো ইরান