যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনার প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন ড্রোন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন চেল। এই কানাডিয়ান ড্রোন সিস্টেম বিশেষজ্ঞ সতর্কতা জারি করে বলেছেন, ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোনের ‘ঝাঁক’ মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী রণতরি এবং বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভার ভিত্তিক ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ড্রাগনফ্লাই’-এর সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্যামেরন চেল এই বিষয়ে তার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
ফক্স নিউজের বরাতে জানা যায়, চেলের মতে ইরান এখন তুলনামূলক সস্তা এবং চালকবিহীন আকাশযানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। এটি এক ধরনের কার্যকর ‘অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল’, যা দিয়ে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উন্নত সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব।
স্বল্প খরচে বড় আঘাত: ক্যামেরন চেল যুক্তি দেখান যে, ইরান মাত্র কয়েক কোটি ডলার খরচ করে এমন ড্রোন সক্ষমতা তৈরি করেছে যা দিয়ে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ বা তীব্র গণ-আক্রমণ চালানো সম্ভব। এতে স্বল্পমূল্যের ওয়ারহেড এবং সাধারণ লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করা: ড্রোনের বিশাল ঝাঁক যখন একসাথে আক্রমণ করে, তখন প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ও মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমগুলো সেই চাপের মুখে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, একসাথে শত শত ড্রোনের আক্রমণ সামলানোর সক্ষমতা প্রথাগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
উন্নত প্রযুক্তির বিরুদ্ধে কৌশল: ড্রাগনফ্লাইয়ের প্রধান জানান, ইরান তাদের এই রিমোট-কন্ট্রোলড ড্রোনগুলোকে বিশেষভাবে নকশা করেছে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সামরিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে উচ্চ-মাত্রার হামলা চালানোর জন্য।
নৌ-প্রতিরক্ষায় ঝুঁকি: প্রচলিত নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাধারণত বড় মিসাইল বা যুদ্ধবিমান মোকাবিলার জন্য তৈরি। কিন্তু ক্ষুদ্র ও অসংখ্য ড্রোনের আক্রমণ মোকাবিলায় এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বিশেষজ্ঞ।
উল্লেখ্য, ক্যামেরন চেলের প্রতিষ্ঠান ‘ড্রাগনফ্লাই’ জননিরাপত্তা, কৃষি এবং শিল্প পরিদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ড্রোন সমাধান দিয়ে থাকে। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান ড্রোন শক্তি মার্কিন নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এক নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিনিয়াপোলিস থেকে বিতর্কিত কমান্ডারকে প্রত্যাহার, তদন্তে সায়
ট্রাম্পের কারণে আমেরিকা ছাড়ার হিড়িক হলিউড তারকাদের 