মিনিয়াপোলিসে গেলো শনিবারে ফেডারেল অফিসারদের গুলিতে দ্বিতীয় এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। চরম উত্তেজনার মুখে হোয়াইট হাউসের সুরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিতর্কিত বর্ডার পেট্রোল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনোকে শহরটি থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তার জায়গায় দায়িত্ব নিচ্ছেন অভিজ্ঞ ‘বর্ডার জার’ টম হোমান।
ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রেত্তি নিহত হওয়ার পর মিনিয়াপোলিস এখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি রেনি নিকোল গুড নামে এক নাগরিক নিহত হওয়ার পর এটি ছিল দ্বিতীয় ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং অভিবাসন অভিযানের নামে ‘অরাজকতা’ বন্ধের দাবিতে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রশাসন এখন একাট্টা।

শনিবার ফেডারেল এজেন্টদের একটি অভিযানের ভিডিও করার সময় অ্যালেক্স প্রেত্তিকে গুলি করা হয়। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দাবি করেছে, প্রেত্তির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তিনি এজেন্টদের ওপর হামলা করতে চেয়েছিলেন।
এমনকি কমান্ডার বোভিনো দাবি করেন, প্রেত্তি এজেন্টদের ‘গণহত্যা’ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং প্রেত্তির পরিবার এই দাবিকে ‘জঘন্য মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রেত্তির হাতে কোনো অস্ত্র নয়, বরং কেবল একটি ফোন ছিল যা দিয়ে তিনি ভিডিও করছিলেন।
কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো এই অভিযানের মূল চরিত্র ছিলেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত রেইড বা অভিযানের ভিডিও পোস্ট করে প্রচার চালাতেন। তার উস্কানিমূলক মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে সরিয়ে টম হোমানকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
হোমান সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে রিপোর্ট করবেন। ওবামা আমলেও অভিবাসন বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় হোমানকে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে ‘কৌশলী’ মনে করা হচ্ছে।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেইর সঙ্গে ফোনালাপ করেন। এতদিন এই দুই ডেমোক্র্যাট নেতাকে তীব্র সমালোচনা করলেও, এই প্রথম উভয় পক্ষ আলোচনার সুরে কথা বলেছেন।
গভর্নর ওয়ালজ জানান, প্রেসিডেন্ট মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন। প্রেত্তির মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় ব্যুরো অফ ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশন যাতে স্বাধীন তদন্ত করতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন।
মিনিয়াপোলিসে বর্তমানে তিন হাজার ফেডারেল এজেন্ট অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জর্জ কর্ডেরো বলেন, মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। চারদিকে এক অজানা আতঙ্ক। সোমবার রাতেও শত শত মানুষ বোভিনোর হোটেলের সামনে বিক্ষোভ করেছে এবং অবিলম্বে সব এজেন্টের প্রত্যাহার দাবি করেছে।
অ্যালেক্স প্রেত্তির বোন মিকাইলা প্রেত্তি ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন তুলেছেন, এইসব কবে শেষ হবে? আর কত নিরীহ প্রাণ গেলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করছে, তারা মিনিয়াপোলিসে ‘প্রতিরোধ ও বিশৃঙ্খলা’ বন্ধ করতে চায়, তবে মাঠ পর্যায়ের অভিবাসন রেইডগুলো এখনও অব্যাহত রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, টম হোমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতি শান্ত হয় না কি আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।
মার্কিন আর্মাডার জবাবে চরম হুঁশিয়ারি দিলো ইরান
মার্কিন অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় ইসরাইল