ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ বর্জন করার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) কতটা মূল্য দিতে হবে? এর উত্তর এই মুহূর্তে সহজ নয়। তবে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের একঘেয়েমি অবস্থান তাদের জন্য চরম আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যাদের সাথে তারা আজ বৈরিতা করছে, তাদের কাছেই হয়তো শেষ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার জন্য হাত পাততে হতে পারে।
একটি সূত্র বলেছে, ম্যাচে উপস্থিত না থাকার কারণে যে ক্ষতি হবে, তার পুরো ভার পিসিবিকে বহন করতে হবে। আইসিসিতে পিসিবির কোনো সমর্থক বা সহায়তাকারী নেই। এই অনড় অবস্থানের কারণে তারা কেবল আইসিসির রাজস্বের অংশই হারাবে না, বরং পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) জন্য বিভিন্ন দেশের বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র পাওয়াও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ডের সাথে পিসিবির দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোও মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তের পর বল এখন আইসিসির কোর্টে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা তাদেরই ঠিক করতে হবে। তবে তাদের নিশ্চিত করতে হবে, সিদ্ধান্তটি যেন অতীতের দৃষ্টান্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং অপরাধী যে দলই হোক না কেন, যেন পক্ষপাতহীনভাবে নিয়ম প্রয়োগ করা হয়। 'ভণ্ডামির' অভিযোগ তোলা খুব সহজ, কিন্তু আইসিসি কীভাবে তা এড়িয়ে চলবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে, এই বর্জনের মাধ্যমে পাকিস্তান কেবল তাদের 'সুপার এইট' পর্বে ওঠার পথকেই সংকটে ফেলেনি, বরং আইসিসির পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদী শাস্তির ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল তাদের গ্রুপের অন্য দলগুলোর সাথে একবার করে খেলে এবং শীর্ষ দুটি দল সুপার এইটে পৌঁছায়। নিয়ম বরছে, কোনো দল (এক্ষেত্রে পাকিস্তান) যদি মাঠে নামতে অস্বীকার করে, তবে প্রতিপক্ষ দল (ভারত) পূর্ণ পয়েন্ট পাবে। এর ফলে কোনো ম্যাচ না খেলেই ভারত পয়েন্ট পেয়ে যাবে, যা তাদের সুপার এইটে ওঠার পথ অনেকটাই নিশ্চিত করে দেবে।
১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বর্জনের ঘোষণার পর, পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তানকে এখন বাকি সব ম্যাচে অবশ্যই জিততে হবে। এছাড়া নেট রান রেট এর বিষয়টিও পাকিস্তানের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বৃষ্টিতে কোন ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও এই সমস্যা তীব্র হতে পারে।
তবে পাকিস্তান যদি সুপার এইট বা ফাইনালে পৌঁছাতে পারে এবং সেখানে আবারও ভারতের মুখোমুখি হয়, তখন তারা তাদের বর্জন নীতি বজায় রাখবে না কি পয়েন্ট ছেড়ে দেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
রোববার পাকিস্তান সরকার ভারত ম্যাচ বর্জন এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়। আইসিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের বিষয়ে তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত বার্তা পায়নি।
এদিকে, ভারত সম্ভবত এই গ্রুপ থেকে অনায়াসেই পার হয়ে যাওয়ার আশা করছিল। তবে যে ম্যাচটি তাদের সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত, সেখানে বিনা লড়াইয়ে জয় পাওয়া তাদের পথকে আরও সহজ করে দিয়েছে। তবে সূর্যকুমার যাদব ও তার দলের জন্য একটি প্রশ্ন থেকে যায়- আসরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে বড় কোনো দলের বিপক্ষে না খেলা কি তাদের জন্য অসুবিধাজনক হতে পারে? পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি না হয়ে ভারত কি তাদের ধার বজায় রাখতে পারবে?
আইসিসি ও ভারতকে ধুয়ে দিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তিরা
আইসিসির সুরেই সুর মেলালো ভারত, চাপে পাকিস্তান!