ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তাপ শুধু টসের সময় থেকে শুরু হয় না, বরং মাঠের লড়াইয়ের আগের প্রায় দুই সপ্তাহের উন্মাদনা আর চাপই এই ম্যাচকে এক বিশেষ রূপ দেয়। রোববার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে যখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হবে, তখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে মাঝের ওভারগুলো হয়ে উঠবে মহাগুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার-প্লের দ্রুত রান তোলার সুযোগ ফুরিয়ে এলে ইনিংসটি তখন এক দীর্ঘ দরকষাকষিতে রূপ নেয়। আর এই পর্যায়ে পাকিস্তানকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারেন তাদের নতুন এক অস্ত্র- উসমান তারিক।
উসমান তারিক এখনো বিশ্ব ক্রিকেটে খুব পরিচিত নাম হয়ে ওঠেননি, কিন্তু মাঠের পরিসংখ্যানে তিনি এরিই মধ্যে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম চারটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ১১টি উইকেট, ৬-এর নিচে ইকোনমি আর ৮-এর কম গড়- একজন বোলারের জন্য এটি শুধু ভালো শুরু নয়, বরং প্রতিপক্ষের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তারিকের বিশেষত্ব তাঁর ‘মিস্ট্রি স্পিন’ নয়, বরং তাঁর বোলিংয়ের বিচিত্র ছন্দ।

রান-আপের সময় তিনি মাঝপথে হুট করে থেমে যান, যা একজন ব্যাটারের সহজাত মুভমেন্ট বা ট্রিগার পজিশনকে এলোমেলো করে দেয়। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটাররা নির্দিষ্ট ছন্দে বলের জন্য প্রস্তুতি নেন, কিন্তু তারিকের এই গতির হেরফের তাঁদের বাধ্য করে দ্বিধাগ্রস্ত শট খেলতে।
ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে বর্তমানে বাঁহাতি ব্যাটারের আধিক্য রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, অফ-স্পিনারের বিরুদ্ধে বাঁহাতিরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও তারিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তিনি যদি স্টাম্পের লাইনে বল পিচ করিয়ে ব্যাটারকে লেট করতে বাধ্য করেন, তবে প্যাডে বল লাগার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যে বলগুলো টার্ন না করে সোজা দ্রুত ব্যাটে আসে, সেগুলোই হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী।
উসমান তারিকের এই মায়াবী ছন্দ ভাঙতে ভারতকে অত্যন্ত সুচিন্তিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। প্রথমত, ব্যাটারদের নজর রাখতে হবে বোলার কখন থামছেন সেদিকে নয়, বরং তাঁর হাতের রিলিজের দিকে। হাতের রিলিজ পড়তে পারলে তারিকের এই নাটকীয় বিরতি আর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
প্রয়োজনে ব্যাটারকে ক্রিজ থেকে সরে গিয়ে বা নতুন করে মার্ক নিয়ে বোলারের মনোযোগ নষ্ট করে দেওয়ার কৌশল নিতে হবে। অর্থাৎ, বোলার কখন বল করবেন তা ব্যাটার নয়, বরং ব্যাটারই নিয়ন্ত্রণ করবেন কখন তিনি বল মোকাবিলা করবেন। বাঁহাতি ব্যাটারদের ক্ষেত্রে পজিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিজের গভীরতা ব্যবহার করে বলকে কিছুটা দেরিতে দেখা এবং সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে রক্ষণাত্মক খেলার বদলে অফ-স্টাম্পের দিকে কিছুটা সরে এসে প্যাডের বদলে ব্যাটে বল নেওয়া জরুরি।
শুরুতে বাউন্ডারির পেছনে না ছুটে স্ট্রাইক রোটেট করা বা সিঙ্গেল নিয়ে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত। একবার যখন তাঁর রিলিজ এবং রিদম ব্যাটাররা ধরে ফেলবেন, তখন ইনসাইড-আউট বা রিভার্স সুইপের মতো শট খেলে তাকে লাইনচ্যুত করা সহজ হবে। তবে তারিকের বিরুদ্ধে ‘স্লগ-সুইপ’ খেলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ তার বিচিত্র ছন্দে টাইমিং গড়বড় হয়ে টপ-এজ বা সফট ডিসমিসালের সম্ভাবনা থাকে।
উসমান তারিককে শুধু টিকে থাকার মানসিকতা নিয়ে মোকাবিলা করলে ভারত পিছিয়ে পড়বে। বরং তাঁর এই নতুনত্বের ঘোর কাটিয়ে তাঁকে একজন সাধারণ স্পিনারে পরিণত করাই হবে ভারতের মূল লক্ষ্য। যদি ভারত তাঁর ছন্দ নষ্ট করতে পারে এবং বাঁহাতি ব্যাটাররা প্যাড লাইনের ফাঁদ এড়িয়ে নিয়মিত সিঙ্গেল নিতে পারেন, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতেই থাকবে। চাপের মুখে যারা তাড়াহুড়ো না করে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থির থাকতে পারে, দিনশেষে জয় তাদেরই হয়।
বুমরাহকে শাসন করা সেই ফারহানেই ভরসা পাকিস্তানের