২৪ বছর আগে বড়দিনের বাজার করতে বেরিয়ে আর ফেরেননি। তিন সন্তান আর স্বামীকে ফেলে নিখোঁজ হওয়া সেই নারী কি তবে খুন হয়েছিলেন? নাকি কোনো দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন? দীর্ঘ দুই যুগ ধরে চলা এই রহস্যের এক নাটকীয় অবসান ঘটেছে। উত্তর ক্যারোলিনার সেই ‘নিখোঁজ’ মা মিশেল লিন হ্যান্ডলি স্মিথকে ২৪ বছর পর জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।
২০০১ সালের ৯ ডিসেম্বর। উত্তর ক্যারোলিনার ইডেন এলাকার বাসিন্দা মিশেল লিন স্মিথ তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন, তিনি ভার্জিনিয়ার একটি কে-মার্টে (সুপারশপ) বড়দিনের কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন। এরপর আর তাঁর কোনো হদিস মেলেনি। দীর্ঘ ২৪ বছর পর, ৬২ বছর বয়সী মিশেলকে উত্তর ক্যারোলিনারই একটি গোপন আস্তানায় খুঁজে পেয়েছে রকিংহাম কাউন্টি শেরিফ অফিস।

২০ ফেব্রুয়ারি মিশেলকে খুঁজে পাওয়ার পর তিনি তদন্তকারীদের কাছে তাঁর নিখোঁজ রহস্যের জট খোলেন। মিশেল জানান, সেই সময় তাঁর পরিবারে চলমান ঝগড়া-বিবাদ বা ডোমেস্টিক ইস্যু থেকে বাঁচতেই তিনি ঘর ছেড়েছিলেন। যদিও শেরিফ স্যাম পেজ জানিয়েছেন, মিশেলদের পরিবারে আগে কখনো কোনো অপরাধ বা সহিংসতার রেকর্ড ছিল না, মিশেল তাঁর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার কথা বিস্তারিত বলতে নারাজ।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মিশেলের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই উধাও হয়েছিলেন।
মিশেল যখন নিখোঁজ হন, তখন তার সন্তানদের ছোট ফেলে রেখে যাওয়ার বিষয়টি কেউ মেনে নিতে পারেনি। নিখোঁজ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পোস্টারে লেখা হয়েছিল, তিনি ‘বিপজ্জনক অবস্থায়’ আছেন এবং ‘নিজের ইচ্ছায় সন্তানদের ফেলে যাওয়ার মানুষ তিনি নন’।

এই দীর্ঘ ২৪ বছর মিশেলের সন্তানদের কাছে ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। লোকমুখে রটেছিল, হয়তো মিশেলের স্বামীই তাঁকে খুন করেছেন। সম্প্রতি মিশেলের এক কন্যা ফেসবুকে আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, গত কয়েকদিন ছিল আবেগের রোলার-কোস্টার। আমি একই সাথে আনন্দিত, ক্ষুব্ধ এবং বিধ্বস্ত!
তিনি আরও জানান, তার বাবার ওপর যে খুনের অপবাদ দেয়া হয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। মায়ের সাথে পুনরায় সম্পর্ক তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে তিনি এখনো দ্বিধাগ্রস্ত।মিশেলকে জীবিত পাওয়া গেলেও তাঁর পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ রেখেছে পুলিশ। তবে পরিবারের তিন সন্তানকে ফেলে যাওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ‘পরিত্যাগ’ বা এ জাতীয় কোনো অভিযোগ আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ক্যাটি গ্রেগ। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করা হয়নি।
বড়দিনের উপহার কিনতে বেরিয়ে মা নিখোঁজ হয়েছিলেন, এই গল্প দিয়ে শুরু হওয়া রহস্যের শেষ হলো এক পারিবারিক অভিমানের মধ্য দিয়ে। মিশেল স্মিথ এখন সুস্থ আছেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ক্ষত কতদিনে শুকাবে, তা সময় বলে দেবে।
