শনিবার ভোরে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ সামরিক আগ্রাসনের এক পৈশাচিক অধ্যায় রচিত হলো। হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৪৩ জন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটেছে। এই বর্বরোচিত হামলা কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের মানবিকতাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে গোটা ইরানজুড়ে।
মিনাব প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইরনা'-কে নিশ্চিত করেছে, শহরের ‘শাজারেয়ে তাইয়েবাহ’ বালিকা বিদ্যালয়টি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় ৪৩ জন ছাত্রী শহীদ হয়েছে এবং আরও ৬৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিস্ফোরণের সময় স্কুলটিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর স্কুল চত্বর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে বই-খাতা ও কলমের বদলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নিথর দেহ। বর্তমানে সেখানে জরুরি উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী সম্মিলিতভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বেশ কিছু শহরে বিমান হামলা শুরু করে। এই আগ্রাসনের পরপরই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

গভর্নর রাদমেহর জানিয়েছেন, মিনাব শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কোমলমতি শিশুদের ওপর এই সরাসরি আক্রমণ ইরানের ভেতরে ও বাইরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বদলে একটি বালিকা বিদ্যালয়কে কেন লক্ষ্য করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বজুড়ে।
ইরান এই হামলাকে ‘চরম ধৃষ্টতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অসামরিক এলাকায় এবং শিশুদের ওপর এই আক্রমণ চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।
‘ট্রু প্রমিজ-৪’: চলছে ইরানের কঠোর পাল্টা হামলা