মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামার মাঝে ইরানের সামরিক কাঠামোর ওপর এক অপূরণীয় আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো দাবি করছে, শনিবার ভোরে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) স্থল শাখার প্রভাবশালী কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। খবর রয়টার্স।
ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সাথে পরিচিত দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই সুনির্দিষ্ট হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দুই প্রধান স্তম্ভ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। যদিও যুদ্ধের ময়দানে সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যু একটি কৌশলগত বিষয়, কিন্তু দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কমান্ডারদের হারানো ইরানের জন্য এক বিশাল মানসিক ও সাংগঠনিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই দুঃসংবাদের মাঝেই এনবিসি নিউজের বরাত দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (X) উঠে এসেছে। তিনি কিছুটা বিষণ্ণ অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, আমরা হয়তো কয়েকজন কমান্ডারকে হারিয়েছি, কিন্তু এটি আমাদের জন্য খুব বড় কোনো সমস্যা নয়।
তার এই বক্তব্যে একদিকে যেমন স্বজন হারানোর বেদনা ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে নিজের দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মনোবল অটুট রাখার এক মরিয়া চেষ্টাও লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ব্যক্তিদের মৃত্যু হলেও আদর্শ বা দেশের প্রতিরক্ষা সংগ্রাম থেমে থাকবে না।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাসিরজাদেহ, উভয়েই ইরানের সামরিক কৌশলের মূল কারিগর ছিলেন। তাদের এই আকস্মিক বিদায়ে তেহরানের প্রতিরক্ষা দপ্তরে গভীর শোকের ছায়া। সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এই খবরটি শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এই শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু কি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেবে? নাকি ইরান তার ‘প্রতিরোধের অক্ষ’কে আরও শক্তিশালী করতে নতুন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে? বিশ্ববাসী এখন সেই উত্তরই খুঁজছে। তবে আপাতত তেহরানের রাজপথ এক থমথমে নীরবতা আর শোকের সাগরে নিমজ্জিত।
ছয় মাস ধরে ইরানে হামলার ছক, আগে থেকেই চূড়ান্ত দিনক্ষণ
ইসরাইলি মিডিয়াতে খামেনির প্রাণহানির গুঞ্জন!