গত শনিবার ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই হামলার জবাবে ইরান তার প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশে পাল্টা আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে মার্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোও রয়েছে। এছাড়া রাতভর লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দীর্ঘ কয়েক মাস পর পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে এই হামলার লক্ষ্য 'শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন' নয়। তবে তিনি ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পরিবর্তনের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ ইরাক যুদ্ধের মতো দীর্ঘস্থায়ী হবে না, বরং এটি একটি সুস্পষ্ট এবং বিধ্বংসী সিদ্ধান্তমূলক অভিযান। হেগসেথের মতে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধ করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে ইরানের ভেতরে কোনো মার্কিন স্থলসেনা না থাকলেও ভবিষ্যতে তা পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কুয়েতে ইরানি হামলায় গুরুতর আহত আরও একজন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে এই হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার-এ। এদিকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে, যাকে সামরিক ভাষায় ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। লেবানন সরকার ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর সব সামরিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের হামলার পর কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি 'কাতার এনার্জি' তাদের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

সাইপ্রাসের আকাশে দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইন বন্দরে নোঙর করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় ক্রু মেম্বারদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার চিহ্ন তারা পায়নি। তবে আইএইএ’তে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, তাদের অন্যতম প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র 'নাতানজ'-এ হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ফুটেজ পাওয়া গেছে।
জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবার এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এটি কোনো এক রাতের অভিযান নয় এবং এই যুদ্ধে আরও মার্কিন সেনার হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যে কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইরান