মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকটের মাঝে ট্রাম্প ইরানের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই তেল ডিপোটি দখলের কথা বিবেচনা করছেন। পারস্য উপসাগরে তেহরানের অবরোধের কারণে তেলবাহী জাহাজগুলো যদি আটকা পড়ে থাকে, তবে ট্রাম্প এই দ্বীপটি সরাসরি দখলে নেয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্র যদি এই পথে হাঁটে, তবে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন পদাতিক সেনা মোতায়েন করতে হবে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় দেশগুলোতে, বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও পাইপলাইনে ইরানের পাল্টা ভয়াবহ হামলার ঝুঁকি তৈরি হবে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রধান মিত্র ইসরাইল এখনই ইরানে স্থল সেনা পাঠাতে আগ্রহী নয়। ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রুবেন আজার দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন বা জেরুজালেম- কারোরই ইরান আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো সামরিক দখলের বদলে জনগণের চাপের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনকে উৎসাহিত করা।
কেন খার্গ দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের নজরে?
পারস্য উপসাগরের সরু প্রণালীতে ইরানের অবরোধের ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা এক বিশাল সংকটের জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, যতদিন এই অবরোধ বজায় থাকবে এবং উপসাগরীয় তেলের পথ রুদ্ধ থাকবে, ততদিন ট্রাম্প চাইলেও এই যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন না।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে একটি জোট গঠনের কাজ করছেন, যা চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে এবং খার্গ দ্বীপে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, তিনি দ্বীপটির তেল স্থাপনাগুলো অক্ষত রেখে সেখানকার সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। পরের দিন তিনি এনবিসি’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিছক মজার ছলে সেখানে আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারে।
ট্রাম্প খার্গ দ্বীপকে ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা মুকুটের তাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, দ্বীপটির প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করা হয়েছে।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরানের অর্থনীতি ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যাবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ এক্সে লিখেছেন, যুদ্ধে এমন একক লক্ষ্যবস্তু খুব কমই পাওয়া যায় যা পুরো যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। খার্গ দ্বীপ যার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যুদ্ধের ভাগ্যও তার হাতে থাকবে।

খার্গ দ্বীপের গুরুত্ব
ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) দূরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপটি জেপি মরগানের তথ্যমতে দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে ইরানের তেল শিল্পের প্রসারের সময় এই দ্বীপটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
যদিও ২০২১ সালে ইরান হরমুজ প্রণালীর বাইরে জাস্ক টার্মিনাল খুলেছে, তবুও খার্গ দ্বীপটি এখনও ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং রেভোল্যুশনারি গার্ডসের আয়ের প্রধান উৎস। আর এই নির্ভরশীলতাই বর্তমানে ইরানের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কফি শপে নেতানিয়াহু, ‘ডিপফেক’ বললো গ্রোক