মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সমঝোতার একটি আশার কথা জানানো হলেও বাস্তবে রণক্ষেত্র আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার ইসরাইল লক্ষ্য করে ইরানের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিয়েছে।
এর মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া আলোচনাগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ছিল। তবে ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর হলেও ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

এদিকে ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এসব ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্তেজনা কমানোর কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, সরাসরি আলোচনা না হলেও মিশর, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে দুপক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চলতি সপ্তাহেই মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার ইসরাইলের তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বহুতল ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর আগে সোমবার ইসরাইলি যুদ্ধবিমান তেহরানের কেন্দ্রে বড় ধরনের হামলা চালায়, যেখানে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইরান-ইসরাইল উভয় পক্ষ একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানছে এবং ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত পাওয়ায় তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ইরানের আলোচনা প্রত্যাখ্যানের খবরে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এই পরিস্থিতিকে জ্বালানি সরবরাহের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বর্তমান বাস্তবতায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে লড়াই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দুপক্ষের অনড় অবস্থান এবং জ্বালানি স্থাপনায় ক্রমাগত হামলার কারণে পুরো অঞ্চল এখন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ