ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পেন্টাগন মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানের সাথে একটি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা ভাবছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলো।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, এই সৈন্যরা মূলত ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’-এর অংশ, যারা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে মোতায়েন হতে সক্ষম। এই কন্টিনজেন্টে ডিভিশন কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন আর. টেগটমেয়ার এবং তাঁর কর্মীসহ দুটি ব্যাটালিয়ন থাকছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার স্থলসেনা এই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে, যা পরিস্থিতির চরম অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পেন্টাগনের এই সামগ্রিক অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, যার অধীনে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকা মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার সেনা নিযুক্ত রয়েছে।
এই প্যারাট্রুপারদের সুনির্দিষ্ট গন্তব্য প্রকাশ করা না হলেও জানানো হয়েছে যে, তারা ইরানের একেবারে নাগালেই অবস্থান করবে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পারস্য উপসাগরের উত্তরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করতে এই সেনাদের ব্যবহার করা হতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন যুদ্ধবিমান এই দ্বীপে ৯০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছিল।
স্থল অভিযানের এই পরিকল্পনায় মেরিন সেনাদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩১তম এক্সপিডিশনারি ইউনিটের প্রায় ২,৩০০ মেরিন সেনা চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ এই অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের কাজ হতে পারে খার্গ দ্বীপ দখল করা অথবা ইরানের অবরোধ করে রাখা কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’ মুক্ত করা। মার্কিন কমান্ডোদের মতে, খার্গ দ্বীপের বিমানঘাঁটিটি সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রথমে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠানো হতে পারে যাতে তারা দ্রুত অবকাঠামো মেরামত করতে পারে। এরপর সি-১৩০ কার্গো বিমানের মাধ্যমে ভারী সরঞ্জাম ও আরও সেনা পাঠানো সহজ হবে।
তবে এই অভিযানে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপাররা দ্রুত পৌঁছাতে পারলেও তারা সাধারণত ভারী সাঁজোয়া যান সাথে আনে না। ফলে ইরানি বাহিনী যদি পাল্টা আক্রমণ চালায়, তবে বড় ধরনের সুরক্ষার অভাব দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মেরিন এবং এয়ারবর্ন ডিভিশনের সমন্বিত শক্তিই হবে আমেরিকার মূল ভরসা।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
নাগালে পেলেই মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানে নির্বিচার হামলায় জ্বলছে বসতবাড়ি ও স্কুল