ইরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা যখন ফুরিয়ে আসছে, ঠিক তখন বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। হোরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ডেডলাইনের মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ‘প্রবল কূটনৈতিক আলোচনা’ চলবে। তবে, একই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের একটি পোস্ট পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে, যেখানে তিনি একটি ‘সভ্যতা’ বিলীন হয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন এবং আমরা আশা করছি এর মধ্যে একটি ভালো সমাধান আসবে। তবে এই সময়ের মধ্যে প্রচুর আলোচনা ও দরকষাকষি হবে।
ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলার বিষয়ে ভ্যান্স নিশ্চিত করেন, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সাথে আলোচনার পরেই সেখানে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে, ভ্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই হামলা ট্রাম্পের মূল কৌশলের কোনো পরিবর্তন নয় এবং মঙ্গলবার রাত ৮টার ডেডলাইন অপরিবর্তিত থাকছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা দেখাচ্ছেন, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক ভয়াবহ বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা মারা যাবে, যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই ঘটতে যাচ্ছে।
এর আগেও ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে ‘পাথর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দাবি না মানলে ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে এবং একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার সমালোচনাকেও তিনি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ভ্যান্স জানিয়েছেন, খার্গ দ্বীপে হামলা মূলত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপের একটি অংশ। যদি রাত ৮টার (ইউএস সময়) মধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা না দেয় এবং ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে না নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার বিধ্বংসী আকাশপথের অভিযান শুরু করবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে জেডি ভ্যান্সের আলোচনার আশ্বাস এবং অন্যদিকে ট্রাম্পের সর্বাত্মক ধ্বংসের হুঁশিয়ারি, এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে ইরান। মঙ্গলবার রাতের এই ডেডলাইন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির গতিপথ চিরতরে বদলে দিতে পারে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে সেই অন্তিম মুহূর্তের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে শান্তি না কি এক মহাপ্রলয়।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
ইরানজুড়ে বিভিন্ন অবকাঠামোতে আমেরিকা ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলা শুরু
খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মধ্য ইরানে সেতুতে হামলা
চুক্তি না হলে ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেয়ার হুঁশিয়ারি