যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। চুক্তির পরও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা কমেনি; লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান কুয়েতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। তবে বুধবার ভোর থেকে দুটি গ্রিক মালিকানাধীন জাহাজ এবং একটি চীনা বাল্ক ক্যারিয়ারকে এই প্রণালী অতিক্রম করতে দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির পর তেহরানের অনুমতি নিয়ে প্রথম একটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে।
বিপরীতে, বিভিন্ন নৌ-পরিবহণ সূত্র জানিয়েছে, এখনো ঝুঁকি কাটেনি। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজগুলো অতিক্রম করার চেষ্টা করলে ইরানের নৌবাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। জার্মান জাহাজ কোম্পানি হ্যাপাগ-লয়েড জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরতে অন্তত ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে অবশ্যই এই বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পথটি খুলে দিতে হবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এর পাল্টা দাবি করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন নীতিগতভাবে এই পথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার মতে, শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে ইরান আগামী বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার নাগাদ অবরোধ তুলে নিতে পারে। তবে সেক্ষেত্রেও জাহাজগুলোকে চলাচলের জন্য তেহরানের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
ইরান ইতিমধ্যে ভারত ও ইরাকসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আলাদা চুক্তি সম্পাদন করেছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্য এই পথটি এখনও সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।
মধ্যস্থতাকারীদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড়ো ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
