যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও অনিশ্চিত শান্তি আলোচনা

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তান সমর্থিত মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার তিনি জানান। তবে, দুই মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র দেশ ইসরাইল কিংবা ইরান এই প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সম্মত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। তেহরান ও তেল আবিব এনিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেয়নি।

ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সমন্বিত প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত এবং আলোচনা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে। তবে, এই ঘোষণা আপাতদৃষ্টিতে একতরফা। কারণ, একই সাথে ট্রাম্প ইরানের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর 'অবরোধ' চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাকে ইরান যুদ্ধের শামিল হিসেবে গণ্য করে।


ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক সংঘাত:
ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে তেহরান বেশ সন্দেহের চোখে দেখছে। ইরানের বিপ্লবি গার্ডস সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান কোনো যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আবেদন করেনি। বরং তারা মার্কিন অবরোধ বলপূর্বক ভেঙে দেওয়ার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের একজন উপদেষ্টা এই ঘোষণাকে ট্রাম্পের একটি 'চাল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা করে। পরবর্তীতে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে সংঘাত লেবানন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রায় ৫,০০০ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব:
যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও বাজার এখনো অস্থিতিশীল।

আলোচনার মূল বাধা: শান্তি আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। ট্রাম্প চাইছেন ইরান থেকে সব ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে যাতে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। অন্যদিকে, ইরান এই দাবিকে সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী মনে করে এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।


একদিকে ট্রাম্প বলছেন তিনি সভ্যতা ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন, অন্যদিকে আবার শান্তি আলোচনার সুযোগ দিচ্ছেন। তার এই দ্বিমুখী অবস্থান এবং ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তান দ্বিতীয় দফায় এই আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা করলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অংশগ্রহণ এবং ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে পরবর্তী বৈঠকের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি

এআরএস
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পেশ করা ‘সাত দিনের প্রস্তাব’ এখনও টেবিলে বহাল রয়েছে বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার...
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী।  সেই সঙ্গে ওই জলসীমায় শুক্রবার থেকে এ...
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব কেটি জ্যাকারিয়া দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় শুক্রবার তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা...
ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন...
রাষ্ট্রায়ত্ত দুই বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা ব্যাংক পিএলসি এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। সোমবার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান...
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে এবং পূজামণ্ডপ দেখতে ঢাকার বাইরে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে তিনি দেশের তিন...
রাশিয়ার নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে ইউক্রেন। মাসের পর মাস ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা, যার ফলে দেশটির অন্তত পাঁচ...
জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধি ও আয়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পুরো ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র গণবিক্ষোভ ও নজিরবিহীন লুটপাটের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছু অঞ্চলে সান্ধ্য আইন...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর