বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর জন্য মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মতামত দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমরা আমাদের মতামত দিয়ে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য মতামতসহ প্রস্তাব আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা উনার (খালেদা জিয়া) দণ্ড আরও ছয় মাস স্থগিতের জন্য মতামত দিয়েছি।
বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হবে- আগের মতো এই দুটি শর্তে তার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় মতামত দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
গত বছর মার্চে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তার পরিবার থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় তার (খালেদা জিয়া) দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গত বছর ২৫ মার্চ সেই আদেশে তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্তি পান। এরপর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আরও দু’দফা তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার।
আবেদনটি মতামতের জন্য পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে মত দিয়ে তা মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে রয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি ফিরলে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।
এর মধ্যে ১১ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। শারীরিক দুর্বলতার কারণে ২৭ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫৩ দিন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরেন তিনি। ইতোমধ্যে করোনার দুই ডোজ টিকাও নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আবারো বাড়ছে
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার সাজায় কারাজীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার সাজা হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘ দু’বছর কারাভোগের পর সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান তিনি।
একাত্তর/আরএ
