ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর তিন সপ্তাহ। ঠিক সেই মহূর্তে ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করে বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি এবার মুখ খুললেন বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ট্রফি জয়ীদের নিয়ে।
গ্লোবোর ‘জর্নাল ন্যাসিওনাল’ অনুষ্ঠানে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের এই হাই-প্রোফাইল কোচ তাঁর পছন্দের ফেভারিটদের তালিকা প্রকাশ করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলগুলোর উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের এই মহারণ।
এই টুর্নামেন্টে কার ফুটবল মস্তিস্কে, কার হাতে উঠবে সোনালী ট্রফি, তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে ৬৬ বছর বয়সী আনচেলত্তি বলেন, ফ্রান্স, অবশ্যই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, পর্তুগাল এবং ইংল্যান্ড—এরাই মূলত শিরোপার দাবিদার। দল অনেক আছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে কোনো দলই নিখুঁত নয়। তবে একটা কথা নিশ্চিত, আমরা সেখানে শুধু অংশ নিতে যাচ্ছি না, আমরা জানপ্রাণ দিয়ে লড়ব।
সেলেসাও বসের মতে, ফেভারিটদের এই তালিকায় থাকা দলগুলো হয়তো নিখুঁত নয়, তবে তারা সবাই দলগত সংহতি বা কালেক্টিভ স্পিরিট দিয়ে দারুণ ফুটবল উপহার দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ট্রফি জয়ের মূল চাবিকাঠি ফাঁস করে তিনি আরও যোগ করেন, বিশ্বকাপে কোনো নিখুঁত দল চ্যাম্পিয়ন হয় না, কারণ নিখুঁত দলের কোনো অস্তিত্বই নেই। যে দল সবচেয়ে বেশি সহনশীল বা ‘রেজিলিয়েন্ট’ হবে, ট্রফি তারাই জিতবে; আর আমরা এই আসরের সবচেয়ে সহনশীল দল হতে চাই।
ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সেলেসাওদের প্রথাগত সাম্বা ফুটবলের সাথে ইউরোপীয় ঘরোয়া ফুটবলের জমাট ও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোর এক দারুণ মিশ্রণ ঘটিয়েছেন আনচেলত্তি। তাঁর এই রণকৌশল ও দূরদর্শিতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছে। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে এই চুক্তি নবায়ন আনচেলত্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রজেক্টের প্রতি বোর্ডের গভীর বিশ্বাসের এক বড় প্রমাণ।
২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে সোনালী ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি ব্রাজিলের। এই দীর্ঘ খরা কাটানোর তীব্র চাপ সামলে কীভাবে তিনি দলকে প্রস্তুত করছেন, তার ব্যাখ্যায় এই বর্ষীয়ান কোচ বলেন, ফুটবলে সফল হতে হলে প্রতিভা আবশ্যক। সৌভাগ্যবশত ব্রাজিলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। কিন্তু শুধু প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা যায় না; এর সাথে প্রয়োজন প্রতিশ্রুতি, সঠিক মানসিকতা, দলগত কাজ এবং মনোযোগের নিখুঁত সমন্বয়। এক বছর আগে আমি যখন এখানে আসি, তখন থেকেই এই কাজটি শুরু করেছি। প্রতিটা ট্রেইনিং ক্যাম্পে আমি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত বিষয়ের ওপর বেশি জোর দিই।
আসন্ন বিশ্বকাপে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল খেলবে ‘গ্রুপ সি’-তে। যেখানে তাদের গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড।
নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৩ জুন আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে আনচেলত্তির শিষ্যরা। এরপর ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়ার সোলজার ফিল্ডে দ্বিতীয় ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে হাইতির।
আর ২৪ জুন মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের মিশন শেষ করবে সেলেসাওরা। মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনো কিছুদিন বাকি থাকলেও, আনচেলত্তির এই আত্মবিশ্বাসী হুঙ্কারে বিশ্বকাপের আবহ কিন্তু মাঠের বাইরে এখনই পুরোদমে জমে উঠেছে!
বিশ্বকাপে ড্রোন হুমকি মোকাবেলায় মাঠে নামছে এফবিআই
ইরানি ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তায় কোচ
ফিফার মঞ্চে কাকাকে পাশে রেখে শাকিরা যা করলেন!