টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যাদের ধরা হচ্ছিল বিশ্বজয়ের প্রধান দাবিদার, সেই স্পেন নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পুচকে কেপ ভার্দের রক্ষণ আর গোলরক্ষক ভোজিনহার দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে গোলশূন্য ড্র করেছে। ১৯ জুলাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন নিয়ে আসা ‘লা রোজা’দের এমন ম্যাড়মেড়ে শুরু ভক্তদের হতাশ করলেও, আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চির ধরেনি স্প্যানিশ শিবিরে।
রোববার রাত ১০টায় এইচ-গ্রুপের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হচ্ছে সৌদি আরবের। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়েকে ৮০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখে ১-১ গোলে ড্র করা সৌদি আরবকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আর তাই এবার পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিতে নিজেদের রণকৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

সৌদি আরবের বিপক্ষে এই ম্যাচে স্পেনের প্রধান ট্রাম্প কার্ড হতে যাচ্ছেন বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী বিস্ময়বালক ল্যামিন ইয়ামাল। গত এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়া এই উইঙ্গার এখনো শতভাগ ফিট নন, যার কারণে প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন মাত্র ১৯ মিনিট। তবে রোববারের ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচে তিনি আরও বেশি সময় মাঠে থাকবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, এখনো পুরো ৯০ মিনিট খেলার সময় আসেনি, তবে কোচ আমাকে যতক্ষণের জন্য চাইবেন, আমি অবদান রাখতে প্রস্তুত। আমরা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট, তাই রোববার আমাদের জিততেই হবে। আমরা আমাদের চিরচেনা আক্রমণাত্মক শৈলী দিয়ে নিজেদের জাত চেনাব। আমার বিশ্বাস, আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালেও আমরা একসাথে হাসব।

ইয়ামালের বার্সা সতীর্থ পাউ কুবারসিও দলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম ম্যাচের ড্র আমাদের বিশ্বাসে বিন্দুমাত্র আঘাত করেনি। আমাদের স্কোয়াডের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের বল পাসের গতি এবং আগ্রাসন আরও বাড়াতে হবে। আমরা সৌদি আরবকে নিয়ে গবেষণা করছি, তবে আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেললেই ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
স্পেন শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হলো, লিভারপুলের নতুন ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনোজ এই ম্যাচেও থাকছেন না। পেশির চোট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার নতুন করে চোটে পড়েছেন তিনি, যার ফলে তাঁর ফেরার সুনির্দিষ্ট কোনো সময় জানা যায়নি। অন্যদিকে, মানসিকভাবে ফুরফুরে থাকা সৌদি আরব শিবিরে নতুন কোনো ইনজুরির দুশ্চিন্তা নেই। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া গ্রিন ফ্যালকনরা এবার উরুগুয়ের পর স্পেনকেও রুখে দিতে মুখিয়ে আছে।

দুই দলের অতীত তিনবারের দেখায় তিনবারই জিতেছে স্পেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০০৬ সালে একবারই দেখা হয়েছিল তাদের, যেখানে হুয়ানিতোর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল লা রোজা। ২০২২ বিশ্বকাপে কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে ওড়ানোর পর থেকে খেলা শেষ ৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচে স্পেন মাত্র ২টি গোল করতে পেরেছে, যা তাদের আক্রমণভাগের বড় দুর্বলতা প্রকাশ করে।
ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের মঞ্চে সৌদির রেকর্ড অত্যন্ত করুণ; ১১টি ম্যাচের ১০টিতেই হেরেছে তারা। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৪ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয়। এশিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে ৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টিতে জিতেছে স্পেন (২ ড্র, ১ হার)। একমাত্র হারটি এসেছিল ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিরুদ্ধে।

লামিন ইয়ামাল শুরু থেকে খেলুন বা বদলি হিসেবে, প্রথম ম্যাচের মতো এবার আর ভুল করতে রাজী নয় ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। সৌদি আরব শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও স্পেনের গতির সামনে তাদের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়বে বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। নিখুঁত প্রেডিকশন বলছে, চেনা ছন্দে ফিরে স্পেন ৩-১ ব্যবধানে সৌদি আরবকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল রেসে দুর্দান্তভাবে কামব্যাক করবে।
