ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে পুরো ফুটবল দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুচকে কেপ ভার্দে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই এমন ইতিহাস গড়ার পর সোমবার ভোরে মায়ামিতে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি উরুগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে ‘ব্লু শার্কস’ খ্যাত দলটি। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ফুটবল বিশ্ব আবারও উরুগুয়েকে ফেভারিট এবং কেপ ভার্দেকে ‘আন্ডারডগ’ বা দুর্বল দল হিসেবে গণ্য করলেও, তাতে বিন্দুমাত্র গায়ে মাখছেন না দলটির ২৩ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক সিডনি লোপেস কাবরাল। বরং ফুটবল বিশ্ব যে তাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা শক্তি ও মানকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করেছে, তা মাঠেই প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছেন এই তরুণরা।
সোমবার আটলান্টায় স্পেনের বিশ্বখ্যাত আক্রমণভাগকে একাই বোতলবন্দী করে রাখা কাবরাল সম্প্রতি বেনফিকা থেকে তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে যোগ দিয়েছেন। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এই ড্রয়ের পর কেপ ভার্দের নকআউটে যাওয়ার ‘সামান্য আশা’ তৈরি হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে জবাব দেন এই ডাচ-বংশোদ্ভূত ডিফেন্ডার।

শুক্রবার দলের ট্রেনিং ক্যাম্পে দাঁড়িয়ে কাবরাল বলেন, আশা নয়, আমরা এখানে আসার আগেই লক্ষ্য স্থির করে এসেছিলাম। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো এই গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে পরের রাউন্ডে যাওয়া। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু আমাদের শক্তি ও নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা আমাদের মান খুব ভালো করেই জানি এবং মাঠে আমাদের কী করতে হবে তাও আমাদের নখদর্পণে। ফুটবল বিশ্ব কেপ ভার্দেকে আন্ডারডিমেট বা অবমূল্যায়ন করেছে কি না, এমন প্রশ্নে কাবরালের সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল, হ্যাঁ, ১০০ পার্সেন্ট!
গত ডিসেম্বরে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাতে যোগ দেয়ার পর এ বছর খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে দুটি হাইপ্রোফাইল ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে কাবরালের। সামনের ম্যাচে মায়ামি স্টেডিয়ামে তাঁর মুখোমুখি হতে হবে রিয়াল মাদ্রিদেরই অন্যতম সেরা প্লেমেকার ফেদেরিকো ভালভার্দের।
চেনা প্রতিপক্ষকে রুখে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাবরাল বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি আন্ডারডগ বা দুর্বল দল হিসেবে মাঠে নামতেই বেশি পছন্দ করি, কারণ তখন নিজের জাত চেনানোর এবং পারফর্ম করার সুযোগ বেশি থাকে। আমি জানি আমাদের স্কোয়াডের ফুটবলাররা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো বড় বড় ক্লাবে খেলে না। তাই মানুষ আমাদের নিয়ে ছোট করে ভাববেই, তা ধরে নিয়েই আমরা মানসিকভাবে শতভাগ প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামি।

এদিকে দলের ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার তেলমো আরকানজো, যিনি এ বছর পর্তুগালের শীর্ষ ক্লাব ভিতোরিয়ার হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন, তিনি স্পেনের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কাবরালের চেয়ে কিছুটা নরম সুরে কথা বলেছেন। আরকানজো বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। কারণ প্রথমবার বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েই আমাদের প্রথম ম্যাচটি খেলতে হয়েছে স্পেনের মতো ট্রফি জয়ের দাবিদার একটি দলের বিপক্ষে। আমরা শুধু এই ধারাবাহিকতা সামনের ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে চাই। তবে উরুগুয়ে দলে শুধু ভালভার্দেই একমাত্র বিশ্বমানের তারকা নন, ডারউইন নুনেজদের মতো বিধ্বংসী আক্রমণভাগের মুখোমুখি হওয়ার আগে মায়ামিতে এক চুলও জমি ছাড়তে রাজি নন পর্তুগালে জন্ম নেওয়া এই মিডফিল্ডার। তিনি যোগ করেন, উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি মারাত্মক তীব্র এবং শারীরিক লড়াইয়ে ঠাসা হতে যাচ্ছে। প্রতিটি বলের জন্য দ্বৈরথ হবে। এটি আমাদের শক্তির এক অগ্নিপরীক্ষা, আশা করি ম্যাচের ভাগ্য আমাদের দিকেই থাকবে।
উরুগুয়ে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে ড্র করে কিছুটা চাপে থাকায়, কেপ ভার্দের এই ক্ষ্যাপাটে ডিফেন্স লাতিন পরাশক্তিদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
