নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ এবং প্রলয়ংকারী আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০ জনে পৌঁছেছে। নেপাল পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বানের পানিতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া জীবিতদের উদ্ধার এবং মৃতদেহ বের করে আনতে উদ্ধারকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে রাষ্ট্রের সব সম্পদ নিয়োজিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তিব্বত সীমান্ত পার হয়ে ‘ভোটে কোশী’ নদীর বুক চিরে প্রচণ্ড গতিতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এই প্লাবনের সৃষ্টি হয়। এতে সীমান্তবর্তী রসুয়া, ধাদিং এবং নুয়াকোট জেলা মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে, ভেসে গেছে অবকাঠামো, তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। ত্রাণকর্মীদের মতে, প্রলয়ংকরী এই বন্যায় বহু জনবসতি পুরোপুরি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে।
হঠাৎ নেমে আসা এই দুর্যোগে নিখোঁজের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নেপাল পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মোট পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে।

বিদেশি ও স্থানীয় পর্যটক: ৫৭৯ জন নিখোঁজ পর্যটকের মধ্যে ৪৬৬ জনই ২৮টি বিভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিক এবং ১১৩ জন নেপালি পর্যটক। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ৫৪ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের এবং ভারতের ১৩৩ জন কৈলাশ মানসরোবরগামী পুণ্যার্থী (অন্যান্য সূত্রমতে মোট ১৪২ জন ভারতীয়) রয়েছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকরাও এতে অন্তর্ভুক্ত।

নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎকর্মী: সাধারণ পর্যটকদের পাশাপাশি সরকারি উদ্ধারকারী ও পেশাজীবী বাহিনীর সদস্যরাও নিখোঁজ রয়েছেন। সরকারি হিসাবে নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ জন সেনা সদস্য, ২৮ জন পুলিশ, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬০ জন শ্রমিক।
ভারতের জরুরি মানবিক সহায়তা: বিপর্যয়ের পরপরই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ ভারত নেপালে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সে দেশের বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ পরিবহন বিমানে করে ১০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ইতোমধ্যেই নেপালে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর বার্তা: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আপনারা যে কষ্ট ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তা কোনোভাবেই ছোট নয়। তবে, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এই কঠিন সময়ে আপনারা একা নন, রাষ্ট্র তার সব ক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ে আপনাদের পাশে রয়েছে।

বর্তমানে নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দল দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে দেশটির ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজে সহায়তা দিতে এরিমধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, আমেরিকা, ব্রিটিনসহ বিশ্বের বহু দেশ সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেপালের পাশে থাকার বার্তা পাঠিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি-এনডিটিভি-রয়টার্স
