সবাইকে কেবল চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পছন্দের ক্ষেত্রে মেধার বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মাহ্দী আমিন বলেন, যার যে বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে বা যে ক্ষেত্রে আগ্রহ রয়েছে—তা মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, চারুকলা, খেলাধুলা, বিতর্ক কিংবা বিজ্ঞানচর্চা যাই হোক না কেন, সরকার চায় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব মেধার স্বাক্ষর রাখুক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত করবে না, বরং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ ঘটানোর উপযোগী সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কেবল ভালো ফলাফল বা সনদ অর্জনই জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়; প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়াও সমান জরুরি। সততা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দেশপ্রেমকে পাথেয় করে আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি স্কাউটদের প্রতি আহবান জানান।
তিনি জানান, দেশের শিক্ষার্থীদের কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের কাছে স্কাউটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আজকের এই মঞ্চের উপস্থিতি দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় এবং সরকারের সচিবগণ উপস্থিত রয়েছেন, যাদের ওপর সার্বিক সাফল্য নির্ভর করে। তিনি চান রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এসব মেধাবী স্কাউটরা আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা পাক।
শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্বের প্রতি আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশে আমরা তোমাদেরকেই নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই। এসএসসি ও এইচএসসির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তোমরা বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল কাণ্ডারী।
বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় আড়াই দশক আগে যখন তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন, তখন পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে উপবিষ্ট মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকেই একটি পুরস্কার পেয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের সাফল্য কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এটি বড় লক্ষ্যের প্রাথমিক ধাপ। সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমকে পথচলার ভিত্তি হিসেবে ধরে রেখে চ্যালেঞ্জ মেটাতে হবে। কখনো হতাশ হওয়া বা নিজের ওপর বিশ্বাস হারানো যাবে না। সংবর্ধনার মাধ্যমে নির্ধারিত নতুন মানদণ্ড ধারণ করে আগামী দিনের সমৃদ্ধ, মানবিক, দক্ষ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে এবং প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে মেধাবীদের পাশে থাকা এবং সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষাবিদ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত স্কাউট ও রোভার স্কাউট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
