মহানবমীর সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী রাবণ দহন এবং বিজয়া দশমীর সকালে শাস্ত্রীয় পূজা ও সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে রাজধানী কলকাতা সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে সমাপ্তি ঘটল শারদীয় দুর্গোৎসবের। সুরের সমাপনী টেনে শুরু হয়েছে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা।
উৎসবে ভিন্ন মাত্র যোগ করতে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু স্থানে মহানবমীর সন্ধ্যায় জমকালো রাবণ দহন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রাচীন রীতি-আচার মেনে সেখানে রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের বিশালাকৃতির কুশপুতুল দহনের পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় চোখধাঁধানো আতশবাজি। উৎসবের অন্তিম রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
পরদিন বুধবার সকালে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিক বিহিত পূজা শেষে শুরু হয় বিদায়ের আবহ। সনাতন রীতির ঐতিহ্য মেনে সধবা নারীরা দেবী উমার চরণে ও সিঁথিতে সিঁদুর ছোঁয়াণ এবং পরে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। পূজা ও বরণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলো থেকে শুরু করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ঐতিহ্যবাহী ইছামতী নদীতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। অধিকাংশ পূজা কমিটিই বুধবারের মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করেছে।
এদিকে, উৎসবের মাঝে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে কলকাতার প্রতিটি ঘাটে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। বিসর্জন পর্বে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পৌরসভা বিশেষ নিরাপত্তা বলয় ও কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে।
