গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান আরিফকে ভারত থেকে ফেরার পথে আটক করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে ধরা পড়ার পর তাকে বর্তমানে সেদেশের স্বরূপনগর থানায় রাখা হয়েছে।
রোববার (২৪ আগস্ট) ওই কর্মকর্তাকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহাকুমা আদালতে তোলা হয়। আটক আরিফুজ্জামানের বাড়ি বাংলাদেশের নীলফামারী জেলায়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি এসিপি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আবু সাঈদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এই সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি হত্যা এবং দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এরমধ্যে, শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় তিনি চার নম্বর আসামি। এছাড়া, শহীদ মেরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার ২১ নম্বর এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন হত্যা মামলার ১৬ নম্বর আসামি আরিফুজ্জামান। এছাড়াও, দুজন কলেজ শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি তিনি।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে এই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জের নেতৃত্ব দেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদকে গুলি করার আগে এবং পরে তিনি কাছ থেকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজেও গুলি করেছেন।
জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর থেকে তিনি বিনা অনুমতিতে তার কর্মস্থলে হাজির হননি। এ কারণে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং সেই থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আরিফুজ্জামান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বদলি করা হয়। সেখানে তিনি গত ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরের দিন থেকে অনুপস্থিত থাকায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।
বিএসএফ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনকভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেখা যায় আরিফুজ্জামানকে। তখনই তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলে নিশ্চিত হয় বিএসএফ।
স্বরূপনগর থানার পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তনের পর এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় আত্মগোপনে ছিলেন। জীবন বাঁচাতে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে স্বরূপনগর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায় এবং রোববার বসিরহাট মহাকুমা আদালতে তোলা হয়।
