করোনার থাবায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন এক বছরের ব্যবধানে। মজুরি কমে যাওয়ায় আয় কমে গেছে ৪৫ শতাংশ পরিবারের।
৮৬ শতাংশ পরিবার খাবারের খরচ কমিয়েছে আর কিনতে পারছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যও। কারণ সঞ্চয় শেষ করে এখন সংসার চলছে ধার-দেনায়।
১৬ জেলার ২৬০০ পরিবারের উপর জরিপ চালিয়ে এই চিত্র হাজির করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি।
করোনাকালের আগেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করা শ্রমজীবীদের কর্মঝুঁকি ছিলো। তবে এখনকার মতো কাজ হারানো আর মজুরি কমার দুশ্চিন্তা ছিলো না।
সিপিডি’র রিসার্চ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ হারানো শ্রমজীবীদের পুনঃনিয়োগ হলেও এই পুনঃনিয়োগ তাদের আয়ের ক্ষয়কে পূরণ করতে পারেনি। অনেকক্ষেত্রে পুরনো পেশায় ফিরে যেতে না পেরে নিম্নতর দক্ষতার কাজে ফিরেছেন তারা।
সিপিডি জানায়, কৃষিক্ষেত্রে যুক্তদের ১৬.৫ শতাংশের আয় কমেছে। এই আয় ও মজুরি কমায় দেশে দারিদ্র আর অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে। নিম্ন আয়ের ৪৭ শতাংশ মানুষের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ৫৬ শতাংশ মানুষ। অথচ বিপরীতে সরকারী সহায়তা একেবারেই অপ্রতুল।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, টিকে থাকার জন্য এই সময়ে মানুষ খাদ্য গ্রহণ কমিয়েছে, খাদ্যে আমিষের পরিমাণ কমিয়েছে, এমনকি নিয়ন্ত্রণ করেছে শিশুখাদ্যও!
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য করোনাকালীন আর্থিক ঝুঁকি নিরসনে সরকারকে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
একাত্তর/ জো
