প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বঙ্গবন্ধু অন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এ সরকার যখন দেশ পরিচালনা শুরু করছে তখন থেকে এনবিআরের অর্জন নেহাত কম নয়। সুতরাং বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা তার সবটা পূরণ সম্ভব।’
‘সুস্পষ্ট ভাবে বলেছিলাম, আমরা দুই কোটি মানুষকে চাকরি দেবো। আমরা দুই কোটি ৪৫ লাখ মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করেছি।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
'দেড় দশকের উন্নয়নের পর স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রগতি' শিরোনামের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ছয় শতাংশে আটকে রেখে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ।
ব্যয়ের জোগান মেটাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের মাধ্যমে চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ আদায় করতে পারলেও প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থেকে যাবে দুই লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
দেশি-বিদেশি ঋণের মাধ্যমে এই ঘাটতি মেটানো হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরের রাজস্ব আদায় নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মূল্যস্ফীতিও ছয় শতাংশে আটেক রাখা যাবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে অনেকের মনে।
সংবাদ সম্মেলনে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এ সরকার যা বলেছে তা বাস্তবায়ন করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকার শঙ্কিত তবে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার নমনীয় পন্থায় এগুচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেসব কারণে মূল্যস্ফীতি হয়, সেগুলো আমলে নেয়া হচ্ছে। আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ছাড় দেয়া, এটা একটা দিক। সেই সাথে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বলয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে গরীববান্ধব উল্লেখ অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল অংশের মধ্যবিত্ত করের আওতায় নেই। এরপরও প্রস্তাবিত কর কাঠামো নিয়ে সাধারণ মানুষের কোন আপত্তি থাকলে তা পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে বাজেট দেয়া হয়েছে বলে সিপিডি ও বিএনপি যে অভিযোগ তুলেছে তা উড়িয়ে দিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, তাদের পরামর্শ মতো আমরা বাজেট করিনি।
আরও পড়ুন: আইএমএফের পরামর্শে বাজেট করিনি: অর্থমন্ত্রী
এবারের বাজেটের আলোচিত বিষয় হচ্ছে- করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেও টিআইএনধারীকে আগামী অর্থবছর থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হবে।
দেশের ৮৮ লাখ টিআইএনধারীর সিংহভাগই এতদিন কর দিতেন না। কর না দেয়া সেই বিপুল সংখ্যক টিআইএনধারী এবার করের আওতায় এসে যাচ্ছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, কর দিতে না চাওয়ার মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। টিআইএনের বিপরীতে যে দুই হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে তা গরীব মানুষদের জন্য নয়। যারা টিআইএন খোলে তাদের এটা দেয়ার সামর্থ্য আছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও অনিয়মে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ এবং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আর না রাখার প্রসঙ্গও আসে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দিয়েও কাঙ্খিত সাড়া পাওয়া যায়নি। এজন্য বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোন সুযোগ রাখা হয়নি। তার মানে সরকার ধরে নিয়েছে যে, দেশে অবৈধ কোনো অর্থ নেই।
একাত্তর/আরবি
