এবার কোরবানিতে এক কোটি চামড়া সংগ্রহ হবে এবং চামড়ার গুণগত মান ভালো হলেও বৃষ্টিতে ১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হবার শঙ্কা বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের।
সরাসরি কেনা চামড়ায় লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করার কাজ শুরু করেছে সাভারের হেমায়েতপুরের ট্যানারিগুলো। ট্যানারিগুলোতে চামড়ায় লবণ দিতে ব্যস্ত শত শত শ্রমিক।
মৌসুমী বিক্রেতাদের কাছ থেকে ট্যানারি মালিকদের নিজেদের উদ্যোগে কেনা চামড়ায় লবণ দেয়া শুরু হয় গতকাল রাত থেকেই। চাহিদা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান তারা।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, ভালভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি চামড়ায় গড়ে আট কেজি পর্যন্ত লবণ দিতে হয়। তবে এবার বৃষ্টির কারণে কোরবানি দিতে এবং চামড়া বিক্রিতে দেরি হয়েছে। তাই কিছু চামড়ার মান নষ্ট হওয়ার আশংকা ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের।
আগামী সপ্তাহ থেকে পোস্তার আড়ৎসহ সারা দেশের আড়ৎ থেকে লবণযুক্ত চামড়া আসবে হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্প নগরীতে।
এদিকে, মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কম দামে চামড়া কেনার চেষ্টা করেছেন পোস্তার আড়ৎদাররা। সকাল থেকে চামড়ার আমদানি কম থাকায় নতুন চামড়া কেনার চেয়ে লবণ দেয়ার কাজেই ব্যস্ত ছিলেন তারা।
কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জানান, এক লাখ পিস গরুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য এরই মধ্যে পূরণ হয়েছে।
তবে দ্বিতীয় দিনেও ছাগলের চামড়ার কদর নেই এখানে। গেলবারের মতো এবারও ছাগলের চামড়া কোন দাম নেই। পোস্তার অলিগলিতে সেই চামড়া ফেলে দিচ্ছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
পাঁচ পিস চামড়া নিয়ে পোস্তায় এসেছিলেন এক মৌসুমী ব্যবসায়ী। সবমিলে বিক্রি হলো ১৬০০ টাকায়। কিন্তু আরেকটু বেশি দামের জন্য অনুরোধ করলেও আড়তদার তা মানতে রাজি নন।
ঈদের দিন রাতে সংগ্রহ করা এবং পরদিন কোরবানি হওয়া চামড়া আসে পোস্তায়। দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে পোস্তায় চামড়ার আমদানি ছিল কম। যারাও বা আসছেন তাদের বেশিরভাগই হতাশ।
চামড়ার দর বর্গফুট হিসেবে বেধে দেয় সরকার। তবে বিক্রির বেলায় চলে চোখের মাপ।
আরও পড়ুন: কোরবানির ঈদ ঘিরে অর্থনীতিতে গতি
এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া কেনাবেচায় সরকারের তদারকি থাকলেও ঢাকায় কারও নজরদারি চোখে পড়েনি।
একাত্তর/জো
